রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পোনা রক্ষায়  প্রশাসনের  অভিযান, বিপুল জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
শাহরাস্তিতে পোনা রক্ষায়  প্রশাসনের  অভিযান, বিপুল জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট
শাহরাস্তিতে ডাকাতিয়া নদীতে মাছের পোনা ও ছোট মাছ রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ৬০টি চায়না রিং জাল ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় ডাকাতিয়া নদীর সূচিপাড়া ব্রিজ থেকে গন্ধর্বপুর চরবাড়ী পর্যন্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান।
এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জহিরুল ইসলাম এবং শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করে। ওই অভিযানে ডাকাতিয়া নদীতে ৬০টি চায়না রিং জালও ৫০০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, নিষিদ্ধ জব্দ পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পোনা ও ছোট মাছ নিধন বন্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো সূচিপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে নিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান বলেন, ডাকাতিয়া নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং মাছের পোনা ও ছোট মাছ নিধন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট জাল ও চায়না রিং জালের মতো নিষিদ্ধ জালে নির্বিচারে মাছের পোনা ও ছোট মাছ ধরা পড়ে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন, বংশবিস্তার ও নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এসব জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ বিষয়ে জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পোনা ও ছোট মাছ শিকার করছে। এতে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ ও নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।