রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোতার আহ্বান জুয়েলের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
চাঁদপুরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোতার আহ্বান জুয়েলের

সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর পৌর এলাকার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল। দল-মত নির্বিশেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উৎসব যাতে অত্যন্ত আনন্দঘন, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে সমাপ্ত হয়, সেজন্য সর্বস্তরের মানুষকে তাদের পাশে থাকার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চাঁদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও ভক্তদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল বলেন, “চাঁদপুর চিরকালই হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলা। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা আমাদের এই সম্প্রীতির মেলবন্ধন যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়। পূজা উদযাপনের পুরো সময়টাতে সবাই যাতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে কান না দেন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকেন, সে আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভূখণ্ড। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব উদযাপন করবেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাদের পূজাঅর্চনা করতে পারেন, সেজন্য আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব একে অপরের প্রতি পরম সহিষ্ণুতা, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রাখা।”

Model Hospital

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনসেবামূলক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইব্রাহীম জুয়েল বলেন, “ব্যক্তি হিসেবে আমি কখনো কারো অনিষ্ট বা ক্ষতি চাইনি। আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো মানবসেবা ও জনকল্যাণ। আপনারা আমাকে ভালোবাসেন, স্নেহ করেন—আপনাদের ভালোবাসাকে সম্বল করেই আমি চাঁদপুর পৌরসভাকে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও শান্তিময় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া নিয়ে আমি সামনের পথচলায় এগিয়ে যেতে চাই। যেকোনো প্রয়োজনে, বিপদে-আপদে আপনারা আমাকে ডাকলে আমি সর্বোচ্চ সাধ্য নিয়ে পাশে থাকবো।”

উল্লেখ্য, কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল চাঁদপুর পৌরবাসীর অতি পরিচিত ও আস্থাশীল একটি মুখ। তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক দায়বদ্ধতা, করোনাকালসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় জনগণ তাঁকে আগামী দিনে চাঁদপুর পৌরসভার যোগ্য ও মানবিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায়।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।