শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলীয় ট্যুরিস্টকে বিরক্ত করা সেই ব্যক্তি ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:০৮ পিএম
অস্ট্রেলীয় ট্যুরিস্টকে বিরক্ত করা সেই ব্যক্তি ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্ত

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় লুক ড্যামান্ট নামে এক অস্ট্রেলিয়ান ভ্লগারকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক দোভাষী আব্দুল কালুকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় টাকা না দিলে একদিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্ত হয়েছেন।

সোমবার (৩ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত তাকে দুইশত টাকা অর্থদণ্ডের বিনিময়ে মুক্তির আদেশ দেন।

সিএমএম আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল ডিএমপি অধ্যাদেশের ৭৭ ধারায় অপরাধ করায় তাকে একই অধ্যাদেশের ১০০ ধারায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সোমবার (৩ এপ্রিল) নিজেদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এমন খবর দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানাও গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Model Hospital

সোমবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, ‘ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা সবসময় অতিথিদের অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আমাদের সুন্দর বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’

জানা গেছে, রবিবার (২ এপ্রিল) দিনগত রাতে রাজধানীর কাওরান বাজার থেকে মোহাম্মদ কালু মিয়া (৬০) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি টিম।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কালু মিয়া স্বীকার করেন, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান এক ভ্লগারকে কাওরান বাজার এলাকায় হেনস্তায় তিনি জড়িত ছিলেন। এই ধরনের কাজ এর আগেও তিনি করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে।

সম্প্রতি ঢাকায় ভ্রমণে আসা অস্ট্রেলিয়ান ইউটিউবার লুক ড্যামান্টের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার রাস্তায় এক বৃদ্ধ তার কাছ থেকে অর্থ সাহায্য চাইছেন। লুক ড্যামান্ট তাকে চলে যেতে বললেও ওই বৃদ্ধ ছিলেন নাছোড়বান্দা। বৃদ্ধের আচরণে বিরক্ত লুক ড্যামান্ট সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেন, ‘অ্যাভয়েড দিজ ম্যান ইন বাংলাদেশ।’

এরপর অসংখ্য বাংলাদেশি তার পোস্টে ওই বৃদ্ধের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নজরে আসে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশেরও। বিদেশি পর্যটককে বিরক্ত করায় শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে আটক করা হয়।

ইউটিউবারকে শনিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে কালু মিয়া জানিয়েছেন, ‘তিনি মূলত নিজ উদ্যোগে দোভাষীর কাজ করেন।’ অনেক বিদেশিকে তিনি সাহায্য করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে লুক ড্যামান্টকে হেনস্তা করার জন্য ক্ষমা চান তিনি।

এদিকে ওই ব্যক্তিকে আটক করার পোস্টটি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন ভ্লগার লুক ড্যামান্ট। সেখানে তিনি লিখেছেন, সব দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ। এই ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকে, আমি বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে ১০০০টির মতো বার্তা পেয়েছি। তারা আমার অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’