বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে হামলা-মামলার স্বীকার প্রতিবেশী আবু তাহের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮:২৪ পিএম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে হামলা-মামলার স্বীকার প্রতিবেশী আবু তাহের
চাঁদপুর সদরে সম্পত্তিগত ঝামেলায় চাচা-ভাতিজার মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে প্রতিবেশীর উপরও হামলা মামলার ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড দাসেরগাঁও বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরে শহীদ উল্যাহ বেপারীর সাথে তারই আপন ভাতিজা প্রবাসী দিদারের সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা চলছে।
এ নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এলাকায় কয়েকবার শালিসও করেন। পরবর্তীতে উক্ত সমস্যা সমাধান হলেও মৃত স্বামীর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে দিদারের মা কয়েকবার তার দেবর শহীদ বেপারীর কাছে অনুরোধ করেন। শহীদ বেপারী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি বাদী হয়ে স্থানীয় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে নিয়ে কয়েকবার শালিস করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিদারের মায়ের অনুরোধে সেই শালিসে একই বাড়ির প্রতিবেশী আবু তাহের বেপারীও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেই উপস্থিতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আবু তাহেরের। শেষ পর্যন্ত গত ৩ সেপ্টেম্বর রবিবার বাড়ির মসজিদে এশার নামাজের পর শহীদ বেপারী ও আবু তাহেরের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শহীদ বেপারীর হাতের কালো লাইট দিয়ে তাহের বেপারীর উপর আঘাত করলে ঠেকাতে গিয়ে তাহের বেপারীর হাতের আঙ্গুলের উপর পড়ে মারাত্মক আঘাত পায়। পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন আঙুলের হাড় অনেকটা ভেঙে গেছে। এবং চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি চলে আসেন।
এমন ঘটনার কথা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী বাড়ির কয়েকজন পুরুষ মহিলা।
ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর শহীদ বেপারীর স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আবু তাহেরসহ ৪ জনকে আসামী করে চাঁদপুর আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। অথচ আবু তাহের বেপারী বাড়ির মানুষের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কোন আইনি ব্যবস্থা না নিলেও শহীদ বেপারী একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এতে সমাজের কাছে আবু তাহের বেপারীর মান সম্মান ক্ষুন্ন হয় এবং তার উপর আক্রমণের বিচারের দাবিতে ঘটনার ১৩ দিন পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার আবু তাহের বেপারী বাদী হয়ে শহীদ বেপারীসহ আরো দুইজনকে আসামী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শহীদ বেপারীকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় এবং তিনি জেলহাজতে আছেন।
এ ব্যাপারে আবু তাহের বেপারী বলেন, শহীদ বেপারীর ভাই-ভাতিজাদের সম্পত্তিগত সমস্যা নিয়ে আমি বাড়ির লোক হওয়ায় আমাকে শালিসগুলোতে ডাকতো। কিন্তু শহীদ বেপারী আমাকে সবসময় ভুল বুঝে আল্লার কাছে দোহাই দিতো। ঘটনার দিন তিনি এশার নামাজ পড়তে গিয়েও নামাজের কিছুক্ষণ আগে মসজিদে বসে বসে আল্লার দোহাই দিতে থাকে। নামাজ শেষে মসজিদের বাহিরে এসেও গালমন্দ করতে থাকলে ওনাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা বিদেশী লাইট দিয়ে আমাকে আঘাত করেন। ঠেকাতে গিয়ে আমার আঙ্গুল ভেঙে যায়। পরদিন তার স্ত্রী আমার নামে চাঁদপুর কোর্টে একটি মিথ্যা মামলা দেন এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্তের জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানাই।
ঘটনার সত্যতা জানতে শহীদ বেপারীর ঘরে গেলে তার স্ত্রীকে না পেয়ে তার পুত্রবধু খাদিজা ও রোকসানা সাংবাদিকদের জানান, আমার শশুর নামাজ পড়তে গিয়ে তাদের নামে নাকি আল্লার কাছে দোহাই দিলে মসজিদের বাহিরে এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তাহের বেপারী আমার শশুরকে মারধর করেন। আমার শাশুড়ির উপরও আঘাত করেন।
এদিকে বাড়ির বেশিরভাগ মানুষই শহীদ বেপারীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তারা বলেন, আসলে ঐ দিন তেমন মারাত্মক ঘটনা ঘটেনি। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে ভালো হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’