বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুর্ণিঝড় মিগজিউমের প্রভাব

অসময়ের বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি, চিন্তিত কৃষক

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:৫২ পিএম
অসময়ের বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি, চিন্তিত কৃষক

ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো চাঁদপুরেও মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাত থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় এবার ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্টিকটন । কৃষকরা আগাম আলু লাগিয়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে। তবে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে ২ দিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। ফসল বাঁচাতে তাই চিন্তিত কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বৃষ্টিতে ভিজে জমি থেকে পানি নিষ্কাশন করছিলেন চরকাশিম এলাকার কৃষক ইব্রাহিম গাজী ও বজলুল রশীদ দেওয়ান।

তাদের সঙ্গে কথা হলে কৃষক ইব্রাহিম গাজী বলেন, আমি এবার তিন বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। তিন দিন আগেই জমিতে সেচ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর থেকেই জমিতে এই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পানি জমতে শুরু করেছে। ফসল বাঁচাতে তাই বৃষ্টিতে ভিজেই পানি নিষ্কাশন করছি।

Model Hospital

চরকাশিম গ্রামের কৃষক বজলুর রশীদ দেওয়ান বলেন, আমি ১২ বিঘা আলু লাগিয়েছি। কিন্তু এই অসময়ের বৃষ্টিতে আমার আগাম জাতের আড়াই বিঘা জমিতে পানি জমেছে। তাই পানি নিষ্কাশন করছি। না হলে আলু গাছের গোড়া পচতে পারে এবং গাছ নুইয়ে যেতে পারে। এ রকম বৃষ্টি চলতে থাকলে ক্ষতির সম্মুখীন হবো।

তথ্যমতে, চাঁদপুর সদরে এবার আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৬শ হেক্টর এবং উৎপাদন ৩৮ হাজার ৪শ মেট্টিক টন। মতলব উত্তরে ৬শ’ ৬৫ হেক্টর এবং উৎপাদন ১৮ হাজার ৩শ’ ৬০ মে.টন। মতলব দক্ষিণে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ৫১ হাজার ৬শ’ মে.টন। হাজীগঞ্জে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫শ’ ৮৫ হেক্টর এবং উৎপাদন ১৪ হাজার ১শ’ মে.টন।

শাহরাস্তিতে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৭০ হেক্টর এবং উৎপাদন ১ হাজার ৬শ ৮০ মে.টন। কচুয়ায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ৪৯ হাজার ২শ মে.টন।

ফরিদগঞ্জে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১শ ২০ হেক্টর এবং উৎপাদন ২ হাজার ৮শ ৮০ মে.টন এবং হাইমচরে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১শ ৬০ হেক্টর এবং উৎপাদন ৩ হাজার ৮শ ৪০ মে.টন।

চাঁদপুরে ১২টি হিমাগারে ৭০ হাজার মে. টন আলু সংরক্ষণ করার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বাকি আলু হিমাগারের বাহিরে থাকে। এর মধ্যে কিছু পরিমাণ আলু উৎপাদন মৌসুম খেকে বিক্রি হয়ে আসছে এবং বাকি আলু

কৃষকগণ কৃষিবিভাগের পরামর্শে কৃত্রিমভাবে মাচায় সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে কৃষি দপ্তর জানায়।

এ দিকে চাঁদপুরের সঙ্গে নৌ, সড়ক ও রেলপথের ভালো যোগাযোগ থাকায় দেশের সর্বত্র কৃষিপণ্য পরিবহন অন্য জেলার চেয়ে খুবই সহজ ও নিরাপদ ইত্যাদি সুযোগ থাকা সত্বেও আলু চাষিরা মার খাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আলু বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী সবজি। চাঁদপুর আলু উৎপাদনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন জেলা। মুন্সীগঞ্জের পরেই চাঁদপুরের অবস্থান।

ফলে চাঁদপুরে বেসরকারিভাবে ১২টি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৭০ হাজার মে.টন। মতলবের করিম কোল্ডস্টোরেজে ধারণ ক্ষমতা বাড়ালেও বাকি আলু কৃষকদের নিজ দায়িত্বে মাচায় বা কৃত্রিম উপায়ে সংরক্ষণ করতে হয়।

৮ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আলু চাষাবাদ ও উৎপাদন করে আসছে চাঁদপুরের কৃষকরা। কম-বেশি সব উপজেলাই আলুর ফলন ও চাষাবাদ হয়। বিগত ক’বছর ধরেই চাঁদপুরে ব্যাপক আলু উৎপাদন হচ্ছে। বিশেষ করে আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর সদরের সফরমালী, রালদিয়া, মুন্সীরহাট, কুমারডুগি, শাহাতলী, মতলব দক্ষিণের আড়ং, বরদিয়া নারায়ণপুর, কেতুয়া এলাকা। বর্তমানে আলুর খুচরা মূল্য ৪০-৪৫ টাকা কেজি ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দীকি বলেন, জমিতে বেশি দিন পানি জমে থাকলে আলুর পচন ধরে কৃষকের ক্ষতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে জমির পানি নিষ্কাশন করলে ক্ষতির সম্ভাবনা কিছুটা কম হবে। তবে এই বৃষ্টিতে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না।

এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই আবহাওয়া ভালো হবে। তবুও আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।