শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পিতা-মাতা ও সমাজকে বঞ্চিত করা চলবে না : মেজর রফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১, ২:৫৯ পিএম
পিতা-মাতা ও সমাজকে বঞ্চিত করা চলবে না : মেজর রফিকুল ইসলাম
মোঃ মাসুদ রানা, নোমান হোসেন আখন্দ : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে  ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০ মেধাবী ডাক্তারকে স্থানীয় সাংসদ মেজর  অবঃ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি  সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (০৪-নভেম্বর) বিকেলে পৌর শহরের পঞ্চগ্রাম (নাওড়া) মহল্লায় স্থানীয় সাংসদের পৈত্রিক পাটোয়ারী বাড়িতে উত্তীর্ণদের এ সম্মাননায় অভিষিক্ত করা হয়। উত্তীর্ণ ২০ জন  ডাক্তার
হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৭ জন এবং শাহরাস্তি উপজেলা ১৩ জনের পৈতৃক নিবাস। ওইদিন দুপুরে ২০ মেধাবী ডাক্তারকে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি মুক্তিযুদ্ধের  ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্বর্ধিতদের
ফুলেল শুভেচ্ছা শিক্ত করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় ও কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় তিনি সম্বর্ধিত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ তোমরা প্রতিষ্ঠিত, এ প্রতিষ্ঠিতা অর্জনে তোমাদের রথের সারথি হিসেবে জীবন উৎসর্গ করেছে পিতা মাতা। এই মাহেন্দ্রক্ষণের শপথ নিতে হবে পিতা মাতা ও সমাজ যেন তোমাদের থেকে কোন প্রকার ভালোবাসা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত না হয়। এছাড়া সেবার মানসিকতা নিয়ে আপামর জনতার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সঙ্গে এও বলেন জীবনের উদ্দেশ্য এবং আদর্শ হওয়া উচিত মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। তাহলেই পিতা-মাতার কষ্ট ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা খানিকটা লাঘব হবে। পরে তিনি আমন্ত্রিত ডাক্তারদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোমেনা আক্তার, শাহরাস্তি পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কচুয়া সার্কেল আবুল কালাম চৌধুরী, হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদ, শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নান ,শাহরাস্তি উপজেলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, স্থানীয় সাংসদের একান্ত সহকারী মশিউর রহমান শাহীন, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহম্মেদ খসরু, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. জসীম উদ্দীন, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সী মোহাম্মদ মনির, উপজেলা আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আহসান মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক দর্জি, হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদুল ইসলাম সোাহেল, হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বীসহ হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া স্থানীয় সাংসদের রাজনৈতিক কর্মী, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলাকার সুধীজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তীর্ণ হওয়া হাজীগঞ্জের ৭ জন শিক্ষার্থীরা হলেন, হাজীগঞ্জ বলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া আক্তারের বড় মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির, একই এলাকার উত্তম কুমার সাহার ছেলে রাজিব কুমার সাহা (অন্তু), টোরাগড় বদরপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে নুরুন নবী জুয়েল, ৩নং কালচোঁ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মাহাদীয়ে বাশার, বাকিলা ইউনিয়নের চতন্তর গ্রামের সিরাজ উদ দৌলার ছেলে ফাহিম রায়হান শুভ, মকিমাবাদ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবু জাফর মজুমদারের মেয়ে মাগফেরাতুন্নেছা উর্মি, ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুুর গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সাহার মেয়ে শান্তা সাহা।
উত্তীর্ণ হওয়া শাহরাস্তি ১৩ জন শিক্ষার্থীরা হলেন নুসরাত জাহান (নিরা), পিতা- নুরুল হুদা, সাং-দশনাপাড়া, আল মুক্তাদির ফয়সাল, পিতা -আ ন ম কামরুজ্জামান, সাং-সাহাপুর, একেএম রাশেদুল করিম বাপ্পি, পিতা মোঃ ইসমাইল মিয়া, সাং-কাজিরকামতা (হাজীবাড়ী, তাসনুবা মরিয়ম, পিতা -মোতালেব সাং-সুচীপাড়া, মারিয়া আহমেদ, পিতা- খাজা আহমেদ, প্রসন্নপুর, সৈয়দ তাবারুকুজ্জামান (তামিম) পিতা-সৈয়দ মোঃ তৌহিদুজ্জামান মিয়া, সাং-উনকিলা, মোঃ আফতাবুল আলম হীরু, পিতা-আউয়াল সাং-নিজমেহার, মোঃ জামাল হোসেন, পিতা মোঃ শামসুল আলম সাং-ভিসারা, মোঃ সাদ্দাম হোসেন পিতা- সিরাজুল ইসলাম, সাং- কান্দিরপাড়, খিলা বাজার, মোঃ রোকনুজ্জামান রনি পিতা মোহাম্মদ আলী আক্কাস সাং-কুলশী, মোঃ ফারুক হোসেন পিতা মোঃ শহিদ উল্যাহ, সেনগাঁও, মোসাঃ দিলরুবা খানম পিতা মোঃ ফাখরুল ইসলাম, সাং-সুচীপাড়া নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিতা মোঃ করিম উল্যাহ দেওয়ান সাং-চেড়িয়ারা সর্ব থানা শাহারাস্তি চাঁদপুর।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’