ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারায়ণপুর বাজারে সরকারি খাল দখল করে চলছে একাধিক বহুতলা ভবন নির্মাণ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে সরকারি খাল দখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম বকাউল ও মোস্তফা পাটোয়ারী নামের স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোয়ালজুড়ি খালের সংযুক্ত নারায়ণপুর বাজারের উপর দিয়ে প্রবাহিত সারপাড় ও বাড়ৈগাঁও জোরাখাল নামে পরিচিত শত বছরের পুরনো এ খালটির নারায়ণপুর সাহেব বাজারের ব্রীজ সংলগ্নে খালের বিশাল অংশ দখলে নিয়ে বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন ওই ব্যক্তিরা। এর আগেও অনেকেই খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলের কারনে খালটি এখন তার যৌবন হাড়িয়ে বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
কৃষি উৎপাদনে পানি সরবরাহ ও বর্ষার পানি নিষ্কাশনে খালটি দীর্ঘদিন যাবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে দখল আর দূষণের কারনে খালটি এখন মৃত প্রায়। ভূমি খেকো প্রভাবশালীদের দখলের দাপটে পানির প্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার একর কৃষি জমির ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী ও খালে পয়ঃনিষ্কাশনে কোন রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেও স্থানী প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ এই খালটির উপর নির্ভরশীল হয়ে প্রতিবছর জমিতে ফসল ফলান তারা এবং বর্ষা শেষে বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল এটি। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এ খালটি স্থালীয় কিছু প্রভাবশালীদের যোগসাজশে খালের বিশাল অংশ জবরদখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের কারনে খালটি আজ যেন যৌবন হারাতে বসেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের নারায়ণপুর সাহেব বাজার অংশে খালের একাংশ দখল করে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আধারা গ্রামের মো. মোস্তফা পাটোয়ারী ও খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের আলমগীর হোসেন ওরফে আলম বকাউল বহুতলা ভবন নির্মাণের জন্য নির্মাণ কাজ করে আসছেন। সরকারি খালের পাশে ভবন নির্মানের কাজ করতে হলে সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে নির্মাণ কাজ করার কথা থাকলেও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবখাটিয়ে খালের একাংশ দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে মোস্তফা পাটোয়ারী ও আলম বকাউল খাল দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন।
এলাকাবাসী জানান স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে আলম বকাউল ও মোস্তফা পাটোয়ারীর মত খালের পাশেই বহুতলা ভবন নির্মাণ করেছেন একাধিক ব্যক্তি।
এদিকে মোস্তফা পাটোয়ারী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেল কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রশাসন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় নির্মাণ কাজ চালু করেছেন ভবন মালিক মোস্তফা পাটোয়ারী। এতে স্থানীয়দের মাঝে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কিভাবে আবার কাজ করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা পাটোয়ারী জানান, সরকারিভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা সব শেষ হয়ে গেছে। সরকারিভাবে ওনারা জায়গা মেপে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। এখনো আমার দেড়ফুট জায়গা খালে আছে। সরকারিভাবে জায়গা পরিমাপের কোন কাগজপত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সকল কাগজপত্র আছে আমার।
উপজেলা সরকারি ভূমি পরিমাপ কর্মকর্তা (সার্ভেয়ার) আব্দুর রহিম জানান, আমি পরিমাপ করে দিয়েছি। নকশা অনুযায়ী কয়েকটি প্লট পরিমাপ করে দেখেছি পূর্ব পাড়ের দোকান খালের নকশায় পড়ে। তবে আমি কোন সার্ভেয়ার কপি দেইনি। অনুমতি দিবে আমার স্যার।
নায়েরগাঁও ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, আলম বকাউল নামের ব্যক্তি খালের পাশে নির্মাণ কাজ করছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। পরবর্তীতে পরিমাপ করে সরকারি খাল নির্ধারণ করার পর তিনি নির্মাণ কাজ করতে পারবেন।
নারায়ণপুর পৌর ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শুক্কুর মোল্লা জানান, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। পরবর্তীতে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করা হয়েছে। কাজ করতে হলে এসিল্যান্ড স্যারের কাছ থেকে অনুমতি কপি নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে কোন অনুমতি নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে মাদরাসাতু মুহাম্মদ সাঃ উদ্বোধন

নারায়ণপুর বাজারে সরকারি খাল দখল করে চলছে একাধিক বহুতলা ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে সরকারি খাল দখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম বকাউল ও মোস্তফা পাটোয়ারী নামের স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোয়ালজুড়ি খালের সংযুক্ত নারায়ণপুর বাজারের উপর দিয়ে প্রবাহিত সারপাড় ও বাড়ৈগাঁও জোরাখাল নামে পরিচিত শত বছরের পুরনো এ খালটির নারায়ণপুর সাহেব বাজারের ব্রীজ সংলগ্নে খালের বিশাল অংশ দখলে নিয়ে বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন ওই ব্যক্তিরা। এর আগেও অনেকেই খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলের কারনে খালটি এখন তার যৌবন হাড়িয়ে বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
কৃষি উৎপাদনে পানি সরবরাহ ও বর্ষার পানি নিষ্কাশনে খালটি দীর্ঘদিন যাবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে দখল আর দূষণের কারনে খালটি এখন মৃত প্রায়। ভূমি খেকো প্রভাবশালীদের দখলের দাপটে পানির প্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার একর কৃষি জমির ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী ও খালে পয়ঃনিষ্কাশনে কোন রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেও স্থানী প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ এই খালটির উপর নির্ভরশীল হয়ে প্রতিবছর জমিতে ফসল ফলান তারা এবং বর্ষা শেষে বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল এটি। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এ খালটি স্থালীয় কিছু প্রভাবশালীদের যোগসাজশে খালের বিশাল অংশ জবরদখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের কারনে খালটি আজ যেন যৌবন হারাতে বসেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের নারায়ণপুর সাহেব বাজার অংশে খালের একাংশ দখল করে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আধারা গ্রামের মো. মোস্তফা পাটোয়ারী ও খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের আলমগীর হোসেন ওরফে আলম বকাউল বহুতলা ভবন নির্মাণের জন্য নির্মাণ কাজ করে আসছেন। সরকারি খালের পাশে ভবন নির্মানের কাজ করতে হলে সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে নির্মাণ কাজ করার কথা থাকলেও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবখাটিয়ে খালের একাংশ দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে মোস্তফা পাটোয়ারী ও আলম বকাউল খাল দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন।
এলাকাবাসী জানান স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে আলম বকাউল ও মোস্তফা পাটোয়ারীর মত খালের পাশেই বহুতলা ভবন নির্মাণ করেছেন একাধিক ব্যক্তি।
এদিকে মোস্তফা পাটোয়ারী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেল কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রশাসন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় নির্মাণ কাজ চালু করেছেন ভবন মালিক মোস্তফা পাটোয়ারী। এতে স্থানীয়দের মাঝে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কিভাবে আবার কাজ করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা পাটোয়ারী জানান, সরকারিভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা সব শেষ হয়ে গেছে। সরকারিভাবে ওনারা জায়গা মেপে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। এখনো আমার দেড়ফুট জায়গা খালে আছে। সরকারিভাবে জায়গা পরিমাপের কোন কাগজপত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সকল কাগজপত্র আছে আমার।
উপজেলা সরকারি ভূমি পরিমাপ কর্মকর্তা (সার্ভেয়ার) আব্দুর রহিম জানান, আমি পরিমাপ করে দিয়েছি। নকশা অনুযায়ী কয়েকটি প্লট পরিমাপ করে দেখেছি পূর্ব পাড়ের দোকান খালের নকশায় পড়ে। তবে আমি কোন সার্ভেয়ার কপি দেইনি। অনুমতি দিবে আমার স্যার।
নায়েরগাঁও ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, আলম বকাউল নামের ব্যক্তি খালের পাশে নির্মাণ কাজ করছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। পরবর্তীতে পরিমাপ করে সরকারি খাল নির্ধারণ করার পর তিনি নির্মাণ কাজ করতে পারবেন।
নারায়ণপুর পৌর ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শুক্কুর মোল্লা জানান, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। পরবর্তীতে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করা হয়েছে। কাজ করতে হলে এসিল্যান্ড স্যারের কাছ থেকে অনুমতি কপি নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে কোন অনুমতি নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।