বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে শিক্ষার্থীদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৫৮ পিএম
হাইমচরে শিক্ষার্থীদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হাইমচর উপজেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নিরুপম মজুমদার, থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান রনি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্তর, ইডেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী নাবিলা নিশাদ, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার সালে আহামেদ, তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান ইমরু, বি.জি.এম. ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী আকবর হোসাইন, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সিয়ামসহ অন্যান শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন থানা তদন্ত অফিসার ইনচার্জ ওয়ালিউল্লাহ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ, উপজেলা প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Model Hospital

শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে দুর্নীতি ও শোষণ মুক্ত হাইমচর গড়ার লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৫ টি দাবি উপস্থাপন করেন। ১৫ টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবি হচ্ছে, প্রথম দাবি উপজেলায় যেকোন মৌলিক সিদ্ধান্তে ছাত্র প্রতিনিধি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।দ্বিতীয় দাবি দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তৃতীয় দাবি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থ দাবি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পঞ্চম দাবি মাদক ও কিশোর গ্যাং এর সাথে যারা জড়িত প্রত্যেককে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ষষ্ঠতম দাবি সকল পরিবহন ব্যবস্থায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সকল প্রকার সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে। সপ্তম দাবি উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের বিশেষভাবে ভূমি অফিসে সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ও ফি এর মধ্যে সকল নাগরিক সেবা প্রদান করতে হবে।

অষ্টম দাবি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহ থানা থেকে প্রাপ্ত সেবা হয়রানি ব্যতীত নিশ্চিত করতে হবে। যেমন পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি। নবম দাবি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ গঠন করতে হবে। দশম দাবি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা উদাহরণস্বরূপ, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদসহ সকল সেবা নির্ধারিত সময় ও ফি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে। এগারো তম দাবি হাসপাতালে দল, মত নির্বিশেষে সকলের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এবং অবৈধ ফি নিয়ে রোগী দেখা বন্ধ সম্পূর্ণভাবে করতে হবে। বারো তম দাবি ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তেরো তম দাবি উপজেলার যেকোন এলাকায় অনিয়ম, সহিংসতা বা অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অবগত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। চোদ্দো তম দাবি সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। পনেরো তম দাবি যেসকল প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স নেই, ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে এবং বাজারে অভিযোগ বক্স স্থাপন করতে হবে।

উপর্যুক্ত দাবি সমূহ অনতিবিলম্ব বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে বিনীত অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শিক্ষার্থীরা এই দাবির অনুলিপি পিএস টু ইউএনও দপ্তর, পিএস টু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, পিএস টু সহকারী কমিশনার দপ্তর, পিএস টু অফিসার ইনচার্জ দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগন কে অনলিপি প্রেরণ করেন।

এই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হাইমচরের শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক সংগঠন স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সেই সংগঠনের পক্ষ থেকেও ৯টি দাবি আলোচনা সভায় উপস্থাপন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।