শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা 

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৩৩ পিএম
কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা 
কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপ্রধানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবায়েদ তালুকদার,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম,ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুর রশিদ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন,বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন,উপজেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সাধারন সম্পাদক হাজী ইমরান,উপজেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ, কাদলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ আমির হোসেন,উপজেলা ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা মহানগর পূর্ব খিলগাঁও থানার ছাত্রদলের উপ-প্রচার সম্পাদক মুক্তার, হুসাইন (সানজিদ),উপজেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্য সোহাগ হোসেন মিয়াজী, কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রহমান, আহসান ইমাম, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসান জনিসহ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের সুস্থতা কামনা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তাদের সকলের আত্নার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।
ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাহী সদস্য চাঁদপুর-১কচুয়া আসনের সাবেক দুবারের এমপি ড.আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য নাজমুন নাহার বেবীর পক্ষে সকল নেতাকর্মী  কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
এরপর সকল আমন্ত্রিত মেহমানদের নৈশ ভোজ করানো হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’