শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার অভিযোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৩৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পেলে প্রতিপক্ষরা।

ফরিদগঞ্জে একটি পরিবারের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ধানুয়া মালেগো বাড়ির সৈয়দ আহাম্মদ মালের বসত ঘরের পাশের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর একই বাড়ির অপর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, মালেগো বাড়ির সৈয়দ আহাম্মদ মালের পরিবার তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিল। একই বাড়ির জালাল উদ্দিন (৪২), মো. দেলোয়ার হোসেন (২৬), আলী আকবর (৫৬) ও ফিরোজা বেগম (৪৬) গংরা চলাচলের রাস্তা দাবী করে তা জোরপূর্বক ভেঙ্গে পেলে। এ সময় সৈয়দ আহাম্মদ মালের পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিলে তারা দেশীয় অস্রসস্র নিয়ে মারতে তেড়ে আসে ও গালমন্দ করে এবং তাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় সৈয়দ আহাম্মদ মালের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
স্থানীয়রা জানায়, সৈয়দ আহাম্মদ মালের পরিবার তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে। কিন্তু ফিরোজা বেগম গংরা তাদের সীমানা শেষ করে রাস্তার জায়গা না রেখেই বিল্ডিং নির্মাণ করে।
দেয়াল ভাঙ্গার অভিযোগটি ফিরোজা বেগম গংরা স্বীকার করে বলেন, আমাদের চলাচলের রাস্তা না থাকায় দেয়াল নির্মাণ না করতে তাদের অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারপরেও দেয়াল নির্মাণ করায় আমরা ভেঙ্গে পেলেছি। এটা আমাদের অপরাধ হয়েছে!
এ বিষয়ে সৈয়দ আহাম্মদ মাল এর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, তাদের জায়গা শেষ করে তারা বিল্ডিং ঘর নির্মান করেছে। আমারা আমাদের জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছি। তাদের রাস্তা দিতে নিষেধ করায় আমাদের দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের মারতে তেড়ে আসে।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. আই মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের আলোকে আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’