শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

১৬ বছর শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে স্বৈরাচারী সরকার : এহসানুল হক মিলন

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:৪৭ পিএম
১৬ বছর শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে স্বৈরাচারী সরকার : এহসানুল হক মিলন

বিএনপির জনসভায় বক্তব্য রাখছেন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান জি জেনারেশন বাংলাদেশকে স্বৈরশাসক থেকে এ দেশকে পুনরায় স্বাধীন করেছে। বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ছিলো না। ওই সময় নির্বাচন কমিশনার আইন থাকা সত্বেও তারা আইনের প্রয়োগ করেনি,ফলে সাধারন মানুষের ভোটের অধিকার ছিলো না। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে শিক্ষাপ্রতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি করে আমি নকলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে ছিলাম। বিনিময়ে আওয়ামীলীগ স্বৈরাচারী শাসন আমলে হামলা মামলার শিকার হয়েছি। ওই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিগত ১৬ বছর শিক্ষা খাতকে স্বৈরাচারী আমলে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ দোষরা ইসকন সংগঠনকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ একটি অস্থিশীল অবস্থা তৈরী করার পাঁয়তারা করছে। বিএনপি আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নির্বাচনে মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে এবং দেশ সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কোন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এই কচুয়াতে আর থাকবে না। আগামী ৫০ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার আর ক্ষমতা আসবে না জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি গতকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে আশেক আলী খান উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে কাদলা ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

কাদলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম বাচ্ছু মাস্টারের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন যুব দলের সভাপতি মো. সোহেল আহমেদ ও উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আব্দুল কাহার মজুমদারের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার বেবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন,সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহ জালাল প্রধান,যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, মাসুদ এলাহী সুভাষ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-ত্রান বিষয়ক সম্পাদক শিল্পি আক্তার, বিএনপির নেতা জান্নাতুল আলমগীর, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান তামীম, পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার,সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন সেলিম পাটওয়ারী, জাতীয়তাবাদী ছাত্র আইন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক এম.আবু ফয়েজ, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা যুব দলের সভাপতি আ: সালাম শান্ত, সাধারন সম্পাদক হাবীব উন নবী সুমন, পৌর যুব দলের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক কাজী ফরহাদ, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন আবেগ, পৌর ছাত্র দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সহ ইউনিয়ন সহ-সমন্বয়ক সোহেল তানভীর প্রমুখ।

Model Hospital

এসময় উপজেলা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মী এবং দলীয় সমর্থকগন উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’