শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:৩২ এম
শাহরাস্তিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা
শাহরাস্তিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে (৫-ডিসেম্বর ) দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহীম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাতের সভাপতিত্বে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সময় সরকারি নীতিমালার আলোকে দিবসটি উদযাপনে বিশদ আলোচনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির বক্তব্য দিবস উদযাপনের কমিটির সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বন্টনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই সময় উপস্থিত সকলেই মনোযোগ সহকারে বক্তব্য শ্রবণ করেন। দিবসটি উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন সকলেই।
ওই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পৌর মেয়র মোস্তফা কামাল, জামায়েত ইসলামী আমির মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বিএসসি, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির,বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া।
এছাড়া শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার, উপজেলা প্রশাসনের শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও ডা: অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ মাকসুদ আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আশরাফ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা সহকারি প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, খাদ্য গুদামের প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শেখ মুজিবুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ মোবারক হোসেন সরকার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতালেব খান, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তুলুসি দেবনাথ, সাবেক যুবদলের সভাপতি মোঃ সাইফুল করিম মিনার, সাংবাদিক মোঃ মাসুদ রানা, চিতোষী পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান মো: জুবায়েদ কবির বাহাদুর, সূচিপাড়া দক্ষিণের মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন হেলাল, সুচিপাড়া উত্তরের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লিটন, টামটা উত্তরের চেয়ারম্যান মোঃ ওমর ফারুক দর্জী, টামটা দক্ষিনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মানিক, রায়শ্রী দক্ষিণের চেয়ারম্যান ডা: মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, রায়শ্রী উত্তরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মুসু, মেহের দক্ষিনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ মুক্তিযোদ্ধা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’