শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজী মাকসুদ আলী মনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে

কচুয়ায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম
কচুয়ায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

কচুয়ায় হাজী মাকসুদ আলী মনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ করছেন অতিথিবৃন্দ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর  উপলক্ষে হাজী মাকসুদ আলী ও মনোয়ারা ফাউন্ডেশন উদ্যোগে ৪ হাজার  পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের বুরগী সা’দ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার মাঠে  সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক ও প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম হোসেন মির্জা  অসহায় গরিবদের মাঝে ঈদ উপহার তুলে দেন।
এসময় বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মাকসুদ আলী, সরোয়ার মাস্টার, আতিকুর রহমান বাবুল, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম,সা’দ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শাইখ মুহাম্মাদ আবু জাবের আজহারী, সমাজসেবক ইয়াছিন গাজী প্রমুখ।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আব্দুল কাইয়ুম মির্জা বলেন- প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমি আমার বাবা মায়ের নামে  হাজী মাকসুদ আলী মনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেছি। এছাড়াও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ১৫ শত ইমাম ও খতিবদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। এই ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে অনেক বছর ধরে মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানায় গরীব অসহায় মানুষকে সাহায্য করে আসছি। আপনারা সবাই এই ফাউন্ডেশন  এর পরিবারের জন্য দোয়া করবেন যাতে করে মানুষের কল্যাণে আমরা আরো বেশি কাজ করে যেতে পারি।
তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় দ্বীনি শিক্ষার জন্য ইসলামিক ও জেনারেল শিক্ষা সমন্বিত পাঠ্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সা’দ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা দিয়েছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা পাঠদান করা হয়। এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়াসহ বিশেষ সুযোগ-সুবিধা জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কে সুরক্ষা ও মানসম্মত পরিবেশে রাখার জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমি ভবন নির্মাণ করেছি।
আপনাদের সন্তানদেরকে ধর্মীয় দ্বীনি শিক্ষায় মানুষ গড়ানোর জন্য এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাবেন। এলাকার মুসল্লিদের জন্য দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেছি। ইনশাল্লাহ যতদিন বেঁচে থাকবো অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করে যাবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’