শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কচুয়ায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হুমায়ুন কবির প্রধান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সুস্থতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনাসহ ৩১ তফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেনের পক্ষ থেকে কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হুমায়ুন কবির প্রধান।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাবিব উল্লাহ হাবিবের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএসএম মনজুর আহমেদ সেলিম ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আমন উল্লাহ আমানের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শাহ জাহান মজুমদার,উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পাঠান,নাছির আহমেদ মিলন,এ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মিয়াজী, বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহ বলুন,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান স্বপন, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মাসুদ প্রধানিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাও.আনোয়ার হোসেন,পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব দুলাল প্রধান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সদস্য সচিব আল আমিন মোল্লা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এনামুল হক প্রধান, পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন,উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ রশিদ প্রমুখ।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সুস্থতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

Model Hospital

এসময় উপজেলা, ইউনিয়ান ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’