শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবিতে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ পিএম
শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবিতে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৫ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৪সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য ও  দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বক্তব্যে বলেন, আজকে তোমাদের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। আজকের অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রন করায় সাংবাদিক সোহেল রুশদী সাহেবসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।
এ এলাকার কৃতিসন্তান শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেব এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো সুদক্ষভাবে পরিচালনা করছেন তারই নাতি সাংবাদিক সোহেল রুশদী সাহেব। তিনি বলেন,তোমরাই আগামী দিনের ভবিষত।তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন ডিসি হবে, এসপি হবে, ম্যাজিস্ট্রেট হবে। স্বপ্ন হচ্ছে আঙ্খাকা। আর আঙ্খাকা পূরনের জন্য যেটা করা হয় তাই স্বপ্ন। তোমাদের ভীষনকে বাস্তবায়ন করার জন্য যেটা করা হয়, তাই স্বপ্ন। আমাদের টার্গেট ছিল, তাই আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি। এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক ও ফলাফল ভালো। সাংবাদিক সোহেল রুশদী সাহেব একজন শিক্ষাবান্ধব মানুষ। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের নিজ অর্থায়নে স্কুল ড্রেস দেন, এটি মহৎ উদ্যোগ। খেলাধূলা পড়াশুনার অংশ। আশা করছি আগামী দিনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখবে। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমি সবধরনের সহযোগিতা করবো।
২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য ও  দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।
বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী বলেন, এ প্রতিষ্ঠান থেকে বহু শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো আমার দাদা মরহুম রুশদী সাহেব ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বিদ্যালয়ের ভবন ও কলেজের ভবন করতে নতুন করে আমার পরিবার থেকে বহু জমি-সম্পদ দান করেছেন । আমি এ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ধারাবাহিক ভাবে ব্যক্তিগতভাবে স্কুল ড্রেস দিয়ে আসছি। কলেজে যারা অসহায় আছে তাদের সহযোগিতা করে আসছি। কোন শিক্ষার্থী যাতে ঝড়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তোমাদের লেখাপড়ার বিষয়ে কোন সমস্যা থাকলে আমাকে জানাবে। আমার পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। আমাদের এ প্রতিষ্ঠান গুলোর পড়ালেখার মান উন্নয়নে নবাগত সদর শিক্ষা অফিসার মহোদয় সহযোগিতা করছেন। শিক্ষা অফিসার একজন ভালো মানুষ।  তিনি শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলো খুব ভালোভাবে চলছে।
তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়টি ১৯৪৮সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারী শিক্ষার উন্নয়নে তিনি এ প্রতিষ্ঠানটি করেছেন। এছাড়াও মরহুম রুশদী সাহেব শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূ্লা অপরিহার্য। তাই তোমাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলা-ধূলাও চর্চা করতে হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসীন উদ্দিন, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রুবিনা আক্তার, সিনিয়র শিক্ষিকা মোহসেনা আক্তার, সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর দে, সহকারি শিক্ষক মো: নেছার আহমেদ খান, সহকারি শিক্ষক মো: আব্দুল মান্নান, সহকারি শিক্ষক মো: মাহবুব আলম গাজী, সহকারি শিক্ষক প্রমথ সরকার, সহকারি শিক্ষক মো: মনির হোসেন, সহকারি শিক্ষক বিথী আক্তার, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
শুরুতেই প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী।
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য সোহেল রুশদীসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও অতিথিদের বেইজ পরিধান করান শিক্ষকবৃন্দগণ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’