শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের মেঘনায় বাল্কহেড-জেলে সংঘর্ষ: ভিন্নস্থানে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
চাঁদপুরের মেঘনায় বাল্কহেড-জেলে সংঘর্ষ: ভিন্নস্থানে মামলা
চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ছিরারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বাল্কহেড ও জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থল ভিন্ন দেখিয়ে অন্য থানায় মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রি. ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী “ছাব্বির সিদ্দিক” নামক একটি বাল্কহেডের স্টাফদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরায় নিয়োজিত কয়েকজন জেলের বিরোধের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলেদের পাতানো জালের ওপর দিয়ে বাল্কহেড ওঠিয়ে পাতানো জালের ক্ষতি এবং জেলে নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ও চাকতি/পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জেলে পক্ষের আমির হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও মুক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, বাল্কহেড পক্ষের বিল্লাল পেদা আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার পর সরেজমিন অনুসন্ধানে চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী কামাল হোসেন দেওয়ান, আমজাদ আলী মিজি এবং মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী আবু সাঈদ, আক্তার হোসেন ও শাকিলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাল্কহেড কর্তৃক জেলেদের জাল নষ্ট করা এবং নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থেকেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত।
তবে ঘটনাকে ঘিরে বাল্কহেড পক্ষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, রূপার চেইন ও নগদ অর্থ নিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কোনো ধরনের  সত্যতা নাই বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বাল্কহেডের মালিকপক্ষের একজন, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর বাসিন্দা আবুল হোসেন পেদা, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে অতিরঞ্জিত তথ্য সংযোজন করে মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ঘটনাস্থল হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের বোরচর সংলগ্ন মেঘনা নদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃত ঘটনাস্থল চাঁদপুর সদর থানার আওতাধীন হওয়া সত্ত্বেও অন্য থানার এলাকা দেখিয়ে মামলা দায়ের করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করছেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নিরপরাধ জেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমানের অধীনে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ জেলেদের হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।