বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই কচুয়ায় নামমাত্র খাল খনন চলছে!

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:০৯ এম
অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই কচুয়ায় নামমাত্র খাল খনন চলছে!
শুষ্ক মৌসুমে কৃষি আবাদ সচল ও খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার খাল খনন কর্মসূচির মত জনবান্ধব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সাড়ে চার কিলোমিটার (সাড়ে চার হাজার মিটার বা ৪.৫ কিলোমিটার অথবা ১৪,৭৬৪ ফুট) কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু খালের উপর অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই চলছে খাল সংস্কার বা খননকাজ ।এতে করে সরকারের নেয়া জনবান্ধব এ কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে ।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন আনোয়ারা মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন প্রবাহমান খালে এ সংস্কার কাজ লক্ষ্য করে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে -কচুয়া পৌরসভাধীন আনোয়ারা মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টার ও তালুকদার বাড়ির সামনের এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি চলছে।যেখানে খালের দু’ পাড়ের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাল খনন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। খালে প্রচুর পানি থাকায় মাটির পরিবর্তে উঠে আসছে পলিথিন ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা নর্দমা।
এতে করে সংস্কার কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে সুস্ক মৌসুমে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিলে সংস্কার কার্যক্রমের শতভাগ সফলতা পেতো ;সেখানে নাম সর্বস্ব এ সংস্কার কাজে আদৌ সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।এর ফলে টেকসই সংস্কার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খালের দু’পাড়ে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ছাড়া খাল খননের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এ খালের প্রস্থ বা একটি সীমানা নির্ধারণী থাকা ও জরুরী। এ ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানতে চাইলে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল মুঠোফোনে জানিয়েছেন- খাল সংস্কার কাজটি এ অর্থবছরের নয়।এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন কোন প্রকল্প।এ ধরনের অভিযোগ তিনি প্রথমই শুনেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো: আব্দুল আলীম লিটন এর বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।