শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগমনের খবরে ফরিদগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে তড়িঘড়ি পরিস্কার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ এম
চাঁদপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগমনের খবরে ফরিদগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে তড়িঘড়ি পরিস্কার

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ আগমনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তড়িঘড়ি করে সাফাই চলছে।

চাঁদপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ আগমনে জাদুমন্ত্রের মতো বদলে গেল ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেনা রূপ।  নোংরা-আবর্জনা মুহূর্তেই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

শনিবারও হাসপাতালের যে আঙিনায় দুর্গন্ধে টেকা দায় ছিল, রবিবার সেখানে ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন এক পরিবেশ। ঝাড়ু আর পানির বালতি হাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এমন দৌড়ঝাঁপ আগে কখনো দেখেননি রোগী ও রোগীর স্বজনরা।​মেঝে থেকে শুরু করে ওয়ার্ড-সব জায়গায় এখন পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া। শয্যায় শুয়ে থাকা রোগীরা তাজ্জব বনে বলছেন, এমন পরিষ্কার হাসপাতাল তো স্বপ্নেও ভাবিনি! কিন্তু স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই হঠাৎ ‘চমক’ ও অতি-তৎপরতায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে-মন্ত্রী আসার খবরে যদি কয়েক ঘণ্টায় পরিবেশ চকচকে করা সম্ভব হয়, তবে এতদিন সাধারণ রোগীরা এই চরম অবহেলা ও দুর্গন্ধের শিকার হলেন কেন?

​ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) সকালে হঠাৎ করেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুরে আগমন করেন। তিনি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা দেখতে পান। ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। যদিও এর কয়েক ঘণ্টা পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটায় সেই প্রত্যাহার আদেশ তুলে নেন মন্ত্রী। তবে এই ঘটনার খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুরের সবকটি উপজেলায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন কড়া অবস্থানের কথা শুনেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুরু হয় তড়িঘড়ি সাফাই অভিযান। রূপ নেয় যেন এক অলৌকিক পরিবর্তন।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর একজন সামছুদ্দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি গত চার দিন ধরে ভর্তি আছি। এসে দেখেছি নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু হঠাৎ করে আজ অলৌকিকভাবে সব দুর্গন্ধ গায়েব হয়ে গেল, হাসপাতাল পরিষ্কার হয়ে গেল! আমরা তো সবসময় এমন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ আশা করি। হাসপাতাল যদি নিয়মিত এমন পরিষ্কার রাখা হয়, তবে রোগীদের রোগবালাই অর্ধেক এমনিতেই সেরে যাবে।

Model Hospital

​মন্ত্রী আসার খবরে হঠাৎ এত তোড়জোড় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের হাসপাতাল সব সময়ই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। আজ সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় চাঁদপুরে আসায় পরিচ্ছন্নতার মাত্রা আরেকটু বাড়ানো হয়েছে।

​পরিচ্ছন্নতার অভাবের পেছনে জনবল সংকটকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, আমাদের এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগী সেবা নিতে আসেন। যেখানে মানুষের যাতায়াত বেশি, সেখানে কিছুটা ময়লা হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম সংকট রয়েছে-মাত্র দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে পুরো হাসপাতাল সামলাতে হয়। তাদের মধ্যে কেউ একজন ব্যস্ত থাকলে কাজ ব্যাহত হয়। জনবল সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।