মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুরে তিনদিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
১৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুরে তিনদিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু

চাঁদপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের লক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এ প্রতিপাদ্যকে ধারন করে চাঁদপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের লক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১১আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় আগামী ১৬ আগষ্ট থেকে ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী  নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশীয় মাছ রক্ষা করতে হবে, এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। মৎস্য খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে। নদী দূষন রোধ করতে হবে। আমরা সফল মৎস্য ব্যবসায়ীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহ দিবো।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর পরিচালনায় সভায় অংশগ্রহন করেন ও বক্তব্য রাখেন, নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর পুলিশ সুপারের পক্ষে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ খায়রুল কবীর, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা প্রতিনিধি , চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের প্রতিনিধি, চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের প্রতিনিধি, চাঁদপুর বিআরডিবির উপ-পরিচালকের প্রতিনিধি, চাঁদপুর মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার প্রতিনিধি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কাজী হোসেন, চাঁদপুর সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক, স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, চাঁদপুর ব্রাক অফিসের প্রতিনিধি, প্রকৃত মৎস্যচাষীদের প্রতিনিধি আ: কাদির, চাঁদপুর পৌর মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো: আমিন শেখ।
তিনদিনব্যাপী কর্মসূচীর প্রথমদিন ১৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৪০মিনিটে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাঙ্গনে শেষ হবে। সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের পুুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। সকাল ১০টা ২০মিনিটে সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের আলোচনা সভা ও সফল মৎস্য চাষী মো: শরীফ হোসেন, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মো: ইমাম হোসেন এর মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। ২য় দিনের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ১৭আগস্ট সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জেলা ও উপজেলার মৎস্য সম্পদ সংরক্ষন ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকাল ৫টায় চাঁদপুর জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতায় মোলহেডে চিত্র প্রর্দশণ করা হবে। ৩য় দিনের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ১৮ আগস্ট সকাল ১১টায় সরকারি শিশু পরিবার চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ এর আয়োজন করা হবে। বিকাল ৩টায় চাঁদপুর মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর এর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
১৬ আগস্ট থেকে তিনদিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু হয়ে ১৮আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।