রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট হাই স্কুলের শতবর্ষ পুর্তি উদযাপনে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট হাই স্কুলের শতবর্ষ পুর্তি উদযাপনে আলোচনা
হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের শতবর্ষ (১০০ বছর) পুর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শতবর্ষ পুর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন ও বাস্তবায়নে উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী তাদের নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, শতবর্ষ প্রাচীন এ বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষা লাভের গুরুদায়িত্ব মাথায় নিয়ে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ ১০ বছর অতিক্রম হয়েছে, কিন্তু শতবর্ষ উদযাপন করা হয়নি। একাধিবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি।
তারা আরো বলেন, এবারের উদ্যোগ যেনো ভেস্তে না যায়। পদে থাকলে কাজ করবো, না থাকলে আমি নেই, তা যেনো না হয়। সবাইকে বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা বিদ্যালয়ে এসে স্মৃতিকাতর হতে চায়।
সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু ছাইদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক হোসাঈনুল আজম, প্রাক্তণ শিক্ষার্থী মমিন সরকার, আবুল হাসেম, মিজানুর রহমান, খোরশেদ আলম, এবারত উল্যাহ্ মানিক।
বক্তব্য রাখেন, সফিকুর রহমান, শাহাদাত তালুকদার, মিজানুর রহমান সেলিম, কাজী জিয়াউর রহমান, আজাদ সরকার, ইমাম হোসেন মিন্টু, কামরুল ইসলাম, কামরুল কাজী, সাজ্জাদ রশিদ ডেবিড, মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, কাজী সাব্বির প্রমুখ। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।