রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে চাঁদপুরের দূর্গোৎসবের পূজো মন্ডপে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পিএম
সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে চাঁদপুরের দূর্গোৎসবের পূজো মন্ডপে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল
ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে চাঁদপুরের পূজো মন্ডপ পরিদর্শনে করেছেন কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং জেলা বিএনপির সাবেক প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৭ অক্টোবর শনিবার রাতে শহরের গোপাল জিউর আখড়া দূর্গোৎসবের পূজো মন্ডপে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময়ে তিনি মন্দির কমিটিকে আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল বলেন, এটা অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সবাই সবার ধর্ম ও উৎসব পালন করবে। আর তা যাতে নির্বিগ্নে করতে পারে সেজন্যই একে অন্যের প্রতি ধর্মীয় সৌহাদ্যপূর্ন সম্পর্ক ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন,আমি ব্যক্তি হিসেবে কখনো কারো ক্ষতি চাইনি। রাজনীতি করি জনকল্যাণের জন্য। আমি চাই আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে পথচলায় এগিয়ে যেতে। একটি বৈষম্যহীন পৌর শহর গড়তে আপনাদের সকলকে পাশে চাই। আপনাদের যেকোন প্রয়োজনে আমাকে কাছে ডাকলে আমি সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে আসবো।
এসময় চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অমরেশ দত্ত জয়,জেলা মহিলা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শিপ্রা মজুমদার,সদস্য সচিব সাবিত্রী রানী ঘোষ, পৌর যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অপু দাস, সদস্য সচিব শিপন ঘোষ, জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক স্বাধীন দত্ত, যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় কর্মকারসহ পূজো মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।