ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাইমচরের বাজারগুলোতে গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রিয় ফল তরমুজ

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে তৃপ্তি এনে দেয় এক ফালি তরমুজ। গ্রীষ্মজুড়ে ফলটির চাহিদাও থাকে ব্যাপক। ফলে গ্রীষ্মের ফল হিসেবে সুপরিচিত এ তরমুজ।
তবে এবার বসন্তের শুরু থেকেই হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যাপকহারে দেখা মিলছে তরমুজের। কিন্তু এখনও শীতের আমেজ থাকায় দাম কম হলেও বিক্রি খুবই কম। ফলে হতাশ তরমুজ বিক্রেতারা। আর চুক্তি অনুযায়ী আগাম জাতের তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে কিনে আড়তে ফেলে রেখে লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, বাজারে এখন যে তরমুজ দেখা যাচ্ছে, তা উত্তরাঞ্চলে চাষ হয়নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষ হওয়া আগাম জাতের তরমুজ হাইমচরসহ বিভিন্ন বাজারে এসেছে।
হাইমচরে তরমুজ চাষের উপযুক্ত মাটি না পাওয়ায় এখন অবধি কেউ এ ফল চাষ করতে পারেনি। প্রতি বছরই উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চাষের চেষ্টা করেও সফলতা পাচ্ছেন না কৃষকগন। তরমুজ চাষের জন্য যেমনই প্রয়োজন মাটি তেমনই প্রয়োজন উপযুক্ত আবহাওয়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরেই উপজেলার আলগী বাজার, জনতা বাজার, হাইমচর বাজার, চরভৈরবী ও তেলির মোড় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে।
আলগী বাজার পূর্ব মাথায় পাইকারি আড়ত থেকে এসব তরমুজ কিনে বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন কিছু খুচরা ফল ব্যবসায়ী। খুচরায় প্রতি পিছ ১২০-৩০০ টাকা দর হাঁকা হচ্ছে এসব তরমুজের।
শুক্রবার (১ এপ্রিল) দুপুরে আলগী বাজার বিসমিল্লাহ মোড়ে তরমুজ কিনছিলেন গন্ডামারা এলাকার বাসিন্দা আবদুল ওয়াহিদ। তিনি বলেন, ‘ফাল্গুন মাস শেষে চৈত্র মাস শেষ হতে চললেও এখনও শেষ রাতে শীত পড়ছে। এজন্য তরমুজ খাওয়া হচ্ছে না। তবে আমার ছেলে তরমুজ খুব পছন্দ করে। তাই ফলটি দেখে কিনলাম’।
আলগী বাজারে তরমুজ বিক্রেতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অন্য বছরগুলোতে এ সময়েই আবহাওয়া গরম থাকে। সেই হিসেবে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন অনেক চাষি। আমরাও লাভের আশায় সূদুর বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা থেকে পাইকারি দামে কিনে খুচরা বিক্রি করছি। তবে শীত থাকায় বিক্রি নেই বললেই চলে। আবহাওয়া গরম হলে বিক্রি জমবে বলে আশা করছেন তিনি।
মৌসুম শুরুর আগেই বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলের তরমুজ চাষিদের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছেন অনেক আড়ৎদাররা। চুক্তি অনুযায়ী এখন যে তরমুজ উঠছে তা আড়তে আনতে বাধ্য তারা। আবহাওয়া খারাপের কারণে চাহিদা কম। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করছেন তারা।
ব্যবসায়ি মোঃ সাইফুল ইসলাম আগাম জাতের কালা, বাংলালিংক, গ্রামীণ, আনারকলি, অলক্লিন, চায়না-২, এশিয়ান-২, বালিসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ রয়েছে। হাইমচরের বাজারগুলোতে কেবলমাত্র বাংলালিংক জাতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবব্রত সরকার জানান, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ দিয়েই হাইমচরের চাহিদা মেটে। ফাল্গুন মাস থেকেই সচরাচর গরম পড়তে শুরু করেছে। গরম তীব্র হওয়ার সাদা সাথে বাজারে তরমুজের চাহিদা বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘লাভবান হতে ব্যবসায়ীরা মৌসুম জুড়ে তরমুজ ব্যবসায় ঝুঁকছেন। তবে এবার আবহাওয়া ভিন্ন বার্তা দেওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় ছাত্রীসহ প্রধান শিক্ষক আটক

হাইমচরের বাজারগুলোতে গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রিয় ফল তরমুজ

আপডেট সময় : ০২:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে তৃপ্তি এনে দেয় এক ফালি তরমুজ। গ্রীষ্মজুড়ে ফলটির চাহিদাও থাকে ব্যাপক। ফলে গ্রীষ্মের ফল হিসেবে সুপরিচিত এ তরমুজ।
তবে এবার বসন্তের শুরু থেকেই হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যাপকহারে দেখা মিলছে তরমুজের। কিন্তু এখনও শীতের আমেজ থাকায় দাম কম হলেও বিক্রি খুবই কম। ফলে হতাশ তরমুজ বিক্রেতারা। আর চুক্তি অনুযায়ী আগাম জাতের তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে কিনে আড়তে ফেলে রেখে লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, বাজারে এখন যে তরমুজ দেখা যাচ্ছে, তা উত্তরাঞ্চলে চাষ হয়নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষ হওয়া আগাম জাতের তরমুজ হাইমচরসহ বিভিন্ন বাজারে এসেছে।
হাইমচরে তরমুজ চাষের উপযুক্ত মাটি না পাওয়ায় এখন অবধি কেউ এ ফল চাষ করতে পারেনি। প্রতি বছরই উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চাষের চেষ্টা করেও সফলতা পাচ্ছেন না কৃষকগন। তরমুজ চাষের জন্য যেমনই প্রয়োজন মাটি তেমনই প্রয়োজন উপযুক্ত আবহাওয়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরেই উপজেলার আলগী বাজার, জনতা বাজার, হাইমচর বাজার, চরভৈরবী ও তেলির মোড় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে।
আলগী বাজার পূর্ব মাথায় পাইকারি আড়ত থেকে এসব তরমুজ কিনে বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন কিছু খুচরা ফল ব্যবসায়ী। খুচরায় প্রতি পিছ ১২০-৩০০ টাকা দর হাঁকা হচ্ছে এসব তরমুজের।
শুক্রবার (১ এপ্রিল) দুপুরে আলগী বাজার বিসমিল্লাহ মোড়ে তরমুজ কিনছিলেন গন্ডামারা এলাকার বাসিন্দা আবদুল ওয়াহিদ। তিনি বলেন, ‘ফাল্গুন মাস শেষে চৈত্র মাস শেষ হতে চললেও এখনও শেষ রাতে শীত পড়ছে। এজন্য তরমুজ খাওয়া হচ্ছে না। তবে আমার ছেলে তরমুজ খুব পছন্দ করে। তাই ফলটি দেখে কিনলাম’।
আলগী বাজারে তরমুজ বিক্রেতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অন্য বছরগুলোতে এ সময়েই আবহাওয়া গরম থাকে। সেই হিসেবে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন অনেক চাষি। আমরাও লাভের আশায় সূদুর বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা থেকে পাইকারি দামে কিনে খুচরা বিক্রি করছি। তবে শীত থাকায় বিক্রি নেই বললেই চলে। আবহাওয়া গরম হলে বিক্রি জমবে বলে আশা করছেন তিনি।
মৌসুম শুরুর আগেই বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলের তরমুজ চাষিদের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছেন অনেক আড়ৎদাররা। চুক্তি অনুযায়ী এখন যে তরমুজ উঠছে তা আড়তে আনতে বাধ্য তারা। আবহাওয়া খারাপের কারণে চাহিদা কম। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করছেন তারা।
ব্যবসায়ি মোঃ সাইফুল ইসলাম আগাম জাতের কালা, বাংলালিংক, গ্রামীণ, আনারকলি, অলক্লিন, চায়না-২, এশিয়ান-২, বালিসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ রয়েছে। হাইমচরের বাজারগুলোতে কেবলমাত্র বাংলালিংক জাতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবব্রত সরকার জানান, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ দিয়েই হাইমচরের চাহিদা মেটে। ফাল্গুন মাস থেকেই সচরাচর গরম পড়তে শুরু করেছে। গরম তীব্র হওয়ার সাদা সাথে বাজারে তরমুজের চাহিদা বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘লাভবান হতে ব্যবসায়ীরা মৌসুম জুড়ে তরমুজ ব্যবসায় ঝুঁকছেন। তবে এবার আবহাওয়া ভিন্ন বার্তা দেওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।