শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের অনুরোধে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি; মিঠুন ভদ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২, ৪:০০ পিএম
সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের অনুরোধে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি; মিঠুন ভদ্র

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক ছাত্র নেতা ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সন্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী সত্যব্রত ভদ্র (মিঠুন ভদ্র) বলেছেন, পারিবারিক ভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশকে লালন করে ছাত্র জীবন থেকে এদলের রাজনীতি করছি, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির মধ্য দিয়ে হাজীপুর উপজেলা বাসীর সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সুখ দুঃখে তাদের পাশে ছিলাম।

তাই এই উপজেলা বাসীর সর্বস্তরের জনগণ ও দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি।

তিনি বলেন,এই দলের রাজনীতি করতে গিয়ে আমি ও আমার পরিবারের মতো এই উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু কখনো আর্দশ থেকে কখনো সরে দাঁড়াইনি।

তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের বিগত সকল কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

Model Hospital

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সবাই একই আর্দশের রাজনৈতিক দলের কর্মী বা একই পরিবারের সদস্য। রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত আপনাদের সাথে ছিলাম আমৃত্যু থাকবো।

প্রিয় কাউন্সিলর ও ডেলিগেট বন্ধুরা আমি আপনাদের ভাই হিসেবে সন্মেলনে আমি আপনাদের সমর্থন প্রত্যাশা করছি।
উল্লেখ্য, কিশোর বয়স থেকে এ দলের রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর যখন কেউ আওয়ামী লীগের নাম মুখে নিতো না, তখন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আঃ রব এমপি, অ্যাডঃ আবু জাফর মাঈনুদ্দিন দের সাথে কিশোর বয়সে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেন।

তিনি ১৯৮৩ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সহ সভাপতি, ১৯৮৭ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র লীগের দপ্তর সম্পাদক, ১৯৮৯ হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র লীগের সহ সভাপতি, ১৯৯২ সালে একই উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ছাএ রাজনীতি শেষে ২০০৬ সাল থেকে দীর্ঘদিন চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ২০১২ সাল থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি এই দলের রাজনীতি করতে গিয়ে কিশোর বয়স থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২৯ টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় ২৯ বার গ্রেফতার, বেশ কয়েকবার কারাবরন, স্বৈরাচার এরশাদ ও জিয়া ও খালেদা জিয়া সরকারের মেয়াদকালে মোট ১৮ বার হত্যা চেষ্টার শিকার হন। ছাত্রলীগ করা বা নেতা হওয়ার কারণে বিএনপি জামাত সরকার মেয়াদে পিতা মাতা, ভাই বোনদের অপমানিত করা হয় ও কয়েক বার বাসা বাড়িতে আগুন সন্তাস,হামলা ও ভাংচুর করা হয়।

১৯৯৩ -১৯৯৪ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) রফিুল ইসলাম বীর উত্তম হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি আসনে নৌকা প্রতীককে নির্বাচন করতে আসলে ঐ সময়ের হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মিঠুন ভদ্রের নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ উপজেলার ছাত্র লীগ কে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করে প্রায় ২ যুগ পর আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করেন।

তিনি ছাত্র লীগের নেতৃত্বকালে কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্র লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও ওয়ার্ড ছাত্র লীগের কমিটি করে আলোচনায় আসেন। তন্মধ্যে ২৫ টি হাই স্কুল বা উচ্চ বিদ্যালয়,১৪ টি মাদ্রাসা, ৪ টি কলেজ, ১টি পৌরসভা, ১১টি ইউনিয়ন, ১০৮ টি ওয়ার্ড ছাত্র লীগের কমিটি করে তিনি তৎকালীন ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট থেকে প্রশংসা অর্জন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’