শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুলের রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ৩:২২ পিএম
হাইমচরে আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুলের রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : চাঁদপুরের হাইমচরে আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুলের ২৫ বছর পুর্তি উপলক্ষে রজতজয়ন্তী, পুনর্মিলনী উৎসব ও সাংস্কৃতিক ২০২২ইং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে ২৪ ডিসেম্বর রবিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, বিদ্যালয় একজন মানুষের ভবিষ্যতের ভীতকে নির্মাণ করে। এজন্য বিদ্যালয়ের প্রতি সকলের দায়বদ্ধতা থাকে। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সকলে নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পুরাতন ও নতুন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধির জন্য এধরণের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. আশরাফুল আলম এর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্র ইমরান হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজাপ্তী রমনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান শিকদার, উপজেলা প্রেসক্লাব, সভাপতি ফারুক ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দিপু পাটওয়ারী, স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কাকলী রাণী দাস এবং অমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম শফিক এর নের্তৃত্বে অতিথিবৃন্দ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার সদর আলগী বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম শফিক।
আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুলের রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব ২০২২ এর দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মত বিনিময়, অনুভূতি প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’