মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সেচ ম্যানেজারের হেঁয়ালীপনায় হুমকির মুখে চাঁদপুরে ১শ একর কৃষি জমি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:৩১ পিএম
সেচ ম্যানেজারের হেঁয়ালীপনায় হুমকির মুখে চাঁদপুরে ১শ একর কৃষি জমি
সেচ ম্যানেজারের একগুঁয়েমি ও হেঁয়ালীপনায় এবারও হুমকির মুখে পড়েছে বাগাদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ সাখুয়ার ১শ একর কৃষি জমি। এতে আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন গত বছর সেচ ম্যানেজার ফজলুর রহমান খান সেচের পানি বন্ধ করে দেয়ায় আমন ও বোরো মৌসুমে তারা ধান উৎপাদন করতে পারেনি। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও বিকল্প সেচের মাধ্যমে কৃষকরা পানির ব্যবস্থা করতে চাইলে সেখানেও বাঁধার সৃষ্টি করেন সেচ ম্যানেজার ফজলুর রহমান খান। যে কারণে পশ্চিম ব্রাহ্মণ সাখুয়া বিলের প্রায় ১শ একর কৃষি জমির ফসল আবাদ বন্ধ ছিল গত বছরও। এ বছরও একই পরিস্থিতির শিকার হতে যাচ্ছে স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা।
স্থানীয় বোরো ধানচাষী কৃষক আলমগীর শেখ, হাবিব মাঝী ও মান্নান মুন্সি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে ধান চাষ করে আসছি কিন্তু আমরা সেচের পানি নিয়ে স্কিম ম্যানেজারের গাফিলতিতে সবসময়ই বিপাকে পড়ি। সচের পানি দিয়ে আমাদের চেয়ে তিনি সবসময় লাভবান হন বেশি। অথচ এরপরও পানি ব্যবস্থাপনায় সেচ ম্যানেজারের হেঁয়ালীপনায় ও জোরজবস্তি আমাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। গত বছর উনি ইচ্ছাকৃতভাবে পানির সেচ বন্ধ রেখে আমাদের ফসল উৎপাদনে বাধার সৃষ্টি করে। তারা জানায়, আমাদের এখানে একটি গ্রামীণ সড়কের কাজ করতে গিয়ে সেচের ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অজুহাতে সেচ মেনেজার আমাদেরকে পানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে। অথচ সড়কের কাজ করার সময় সড়ক নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ও কৃষকদের আবেদন থাকা সত্ত্বেও তিনি পানি সেচের ড্রেন মেরামত করেননি। এছাড়াও পানির পাইপ ও বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা বললেও তিনি রাজি হননি।
কৃষক মান্নান মুন্সি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেন মেরামতের কথা বলে স্কিম ম্যানেজার ফজলুর রহমান গত বছর উপজেলা পরিষদ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ আনে। অথচ এ পর্যন্ত ড্রেন মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ বছর বোরো ধানের আবাদ সামনে রেখে স্কিম ম্যানেজার কৃষি জমি বাদ দিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের ভিটে জমির উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করতে যান। এতে স্থানীয় মানুষ ফুসে উঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশিদ খান ও শামীমা আক্তার বলেন, সেচ ম্যানেজার ফজলুর রহমান কৃষিজমি বাদ দিয়ে আমাদের ভিটে জমির উপর দিয়ে ট্রেন নির্মাণ করতে চেষ্টা করে এতে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধি দল পাঠান। এতে সেচ ম্যানেজার ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রতিনিধি দলের সাথে অশোভন আচরণ করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে সেচ ম্যানেজার পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশিদ খান ও শামীমা আক্তার জানান, কৃষি জমি রেখে বসতি জমির উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ কোনভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। মূলত সেচ ম্যানেজার নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বাদ দিয়ে এই ড্রেন নির্মাণ করতে চাচ্ছে। তারা জানান, এখানে আমাদেরও কৃষি জমি রয়েছে। ধান আবাদের জন্য আমরা বিকল্প সেচ ব্যবস্থা করতে চাইলেও তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সেচ ম্যানেজার মূলত কৃষকদের জিম্মি করে নিজের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছি। অভিযোগের সততা পাওয়া গেছে। ওখানকার জমি মালিক হচ্ছে ওখানকার মানুষ তারা যদি স্বেচ্ছায় জমি না দেয় তাহলে সরকারি কোন প্রকল্প হবে না। কৃষকের জন্য যেহেতু সেচের প্রয়োজনীয়তা আছে সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করা হবে, যাতে করে কাহারো কোন ক্ষতি না হয় এবং সেচের ব্যবস্থাও করা হয়। বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রস্তাবনা ছিল তবে ড্রেন করার মত জায়গা না পাওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে।
সেচ ম্যানেজার ফজলুর রহমান খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এগুলো মিথ্যা। তবে সেচের ড্রেন তো অন্যের জমি দিয়েই দিয়েছে। এখন রাস্তা হয়েছে বিধায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ কেউ সেচটা বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। আমি এখন আর সেচের কোন কাজ করতে চাই না। কৃষকরায় সিদ্ধান্ত নিবে কাকে দিয়ে সেচের পানি ব্যবস্থা করবে।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।