শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

উড়োজাহাজ চড়ে সৈয়দপুরে নেমে শতাধিক গাড়ি বহর নিয়ে সারজিসের শোডাউন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, ৯:০৭ পিএম
উড়োজাহাজ চড়ে সৈয়দপুরে নেমে শতাধিক গাড়ি বহর নিয়ে সারজিসের শোডাউন

ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত উড়োজাহাজে চড়ে এলেন। বাকি ১০০ কিলোমিটার পথের মধ্যে অর্ধেকটা পাড়ি দিয়েছেন শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে। এই বহর নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল) সোমবার (২৪ মার্চ) পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেছেন।

সারজিস আলম রাজনৈতিক দল গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা পঞ্চগড়ে এসেছেন। শতাধিক গাড়ির (কার-মাইক্রোবাস) বহর নিয়ে পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলা সফর করেছেন। দুপুরে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিজয় চত্বরে আয়োজিত পথসভায় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

পথসভায় সারজিস আলম বলেন, ‌‘কথা নয়, আমরা কাজ করে দেখাতে চাই। আগামীর বাংলাদেশে মানুষ আর দলের নাম বা প্রতীকের ওপর ভিত্তি করে ভোট দেবে না। এতোদিন সাধারণ মানুষকে নেতারা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন, যা আর হতে দেওয়া যাবে না। ভোটের আগে নেতারা এসে কিছু টাকা দিয়ে যান, আর নির্বাচনের পর জনগণের সেবার পরিবর্তে তারা অর্থের জন্য হাত বাড়ান। আমরা এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে চাই। যে জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সম্পদ লুট করবে, তাকে আর মেনে নেওয়া যাবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে সারজিস আলম সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। সেখানে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে তার ঘনিষ্ঠজনেরা অপেক্ষা করছিলেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরে তিনি দেবীগঞ্জ সদরের ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছান। সেখানে জেলার পাঁচ উপজেলা থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে আসা এনসিপির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। ব্যান্ড দলের সদস্যদের সরব উপস্থিতিও ছিল। সেখান থেকে ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের বিজয় চত্বরে যান। সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন সারজিস।

Model Hospital

আটোয়ারী উপজেলার রাখালদেবী এলাকার বাসিন্দা মিলন ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেবীগঞ্জ ফার্মগেট এলাকায় সারজিস আলমকে নিতে গিয়েছিলাম। তবে আমাদের আগেই চারটি গাড়ি সারজিস আলমকে আনতে সৈয়দপুরে গিয়েছিল। পরে বোদা, পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলা ঘুরে আটোয়ারীতে এসে ইফতার করেছি আমরা।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা শহর সংলগ্ন করতোয়া নদীর ওপর চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে ১৩৫টি গাড়ির জন্য পাঁচ হাজার টাকা টোল দেন সারজিস। সেতুর টোল আদায়কারী বাবু বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে ১৩৫টি গাড়ি আছে। সব মিলিয়ে আমাদের পাঁচ হাজার টাকা টোল দিয়েছেন সারজিস আলম।’

শতাধিক গাড়ির (কার-মাইক্রোবাস) বহর নিয়ে পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলা সফর করেছেন

আটোয়ারী উপজেলার মাইক্রোবাস চালক মো. আসিফ বলেন, ‘গাড়ির সঠিক সংখ্যা বলতে পারছি না। তবে দেড় শ গাড়ির বেশি হতে পারে। আমাদের একেকটি গাড়ি সাত হাজার টাকা করে নির্ধারণ হয়েছে।’

দেবীগঞ্জে পথসভা শেষ করে সারজিস আলম গাড়িবহর নিয়ে বোদা উপজেলার দিকে যান। সেখানে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে একটি পথসভা করে পঞ্চগড় শহরের ওপর দিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় চলে যান সারজিস। পরে তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলায় পথসভা শেষে গাড়িবহরটি পঞ্চগড় জেলা শহরে ফিরে আসে। তবে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পথসভা করার কথা থাকলেও সময়ের অভাবে তা হয়নি।

ইফতারের আগে গাড়িবহরটি পঞ্চগড় জেলা শহরের ওপর দিয়ে সরাসরি আটোয়ারী উপজেলা শহরে চলে আসে। আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এনসিপি আটোয়ারী উপজেলা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন গাড়িবহরে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।

সারজিস আলমের আগমন উপলক্ষে গত দুদিন ধরে পঞ্চগড় জেলা শহর ছাড়াও অন্য উপজেলাগুলোতে পোস্টার লাগানো হয়েছে। এসব পোস্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সারজিস আলমকে পঞ্চগড়বাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এনসিপির পক্ষ থেকে সারজিস আলম পঞ্চগড়বাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-এমন পোস্টারও লাগানো হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।