শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হলেন চাঁদপুরের গিয়াস উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হলেন চাঁদপুরের গিয়াস উদ্দিন
বিমা খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, বাণিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কালবেলার ইব্রাহীম আলী পেয়েছেন ১৮ ভোট। আর সভাপতি পদে ৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের গোলাম মওলা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুপালী বাংলাদেশের মো: রহিম শেখ পেয়েছেন ১৪ ভোট।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সদস্যদের ভোটে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি আগামী দুই বছর (২০২৬-২৭) দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ, গিয়াস উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে। গিয়াস উদ্দিন বর্তমানে দেশের অন্যতম বিজনেস দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন এর সম্পাদক ও প্রকাশক এর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতা করছেন। গিয়াস উদ্দিন শুরুতে রাজনৈতিক বিটে কাজ করলেও পরে বিজনেস রিপোর্টিং এ কাজ শুরু করেন। বর্তমানা তিনি অর্থনীতিবিদের একমাত্র সমিতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ), ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট’স ফোরামের (সিএমজেএফ), ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) স্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক, ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) দফতর সম্পাদক ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট’স ফোরামের (সিএমজেএফ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও দৈনিক নয়া দিন্তের সিটি এডিটর আশরাফুল ইসলাম। অন্য দুই সদস্য ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সামদানী ভুঁইয়া ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।
নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন আমাদের অর্থনীতির মাসুদ মিয়া। যুগ্ম সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং বিডির নাজমুল ইসলাম ফারুক। অর্থ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন ইন্স্যুরেন্স নিউজবিডির আব্দুর রহমান।
কার্যনির্বাহী কমিটির ২টি সদস্য পদে নয়া দিগন্তের শাহ আলম নূর ৩২ ভোট এবং আরটিএনএন-এর আজিবুল হক পার্থ ২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’