শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আল-কারিম হাউজিং লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সুদমুক্ত হালাল আয়ের পথ প্রসারিত করাই মূল লক্ষ্য : শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৯ এম
সুদমুক্ত হালাল আয়ের পথ প্রসারিত করাই মূল লক্ষ্য : শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

আল-কারিম হাউজিং লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

সুদমুক্ত ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে হালাল আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রত্যয় নিয়ে আল-কারিম হাউজিং লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় বৈশাখী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভা শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সভা শেষে দুপুর ১টায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-কারিম হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। সভা পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন।
সভায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহবিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুফতি জাফর আহমদ এবং চাঁদপুরের বিশিষ্ট আলেম ও ওয়ায়েজ মাওলানা নুরুল আমিন জিহাদি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং আল-কারিম হাউজিং লিমিটেডের কার্যক্রম সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-প্রস্তাবিত বাজেট এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আল-কারিম হাউজিং লিমিটেড সুদভিত্তিক ঋণ নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং ব্যাংকিং সুদকে ব্যবসায়িক লভ্যাংশের সঙ্গে যুক্ত করা হয় না। শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করে সদস্যদের জন্য হালাল আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সুদমুক্ত আর্থিক কার্যক্রমকে সমাজে প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে আল-কারিম হাউজিং লিমিটেড কাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হলে তারা সুদমুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে আরও
বেশি আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “মানুষের কাছে সুদমুক্ত বিনিয়োগের নিরাপদ ও আস্থাশীল ঠিকানা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তাই বিনিয়োগের আগে সবাইকে আমাদের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার, বোঝার এবং প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানাই। যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
দীর্ঘ ১৯ বছরের ব্যবসায়িক পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সময়ে অনেক মানুষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের আস্থা ও অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি আরও বলেন, “সদস্যদের আমানতের আমানতদার হিসেবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সদস্যদের বিনিয়োগের বিপরীতে কীভাবে শরিয়াহসম্মত উপায়ে মুনাফা দেওয়া যায়, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি।”
সভায় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, সদস্যদের আস্থা ধরে রাখা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানকে আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভা শেষে দেশ, জাতি ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’