ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর সদর ওসি আবদুর রশিদের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী মনির পেল ইজিবাইক

সময়ে -অসময়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশিরভাগ আলোচিত হয়। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারাও যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই, আমরা তা স্বীকার করতে নারাজ। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করি না। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ এর মতো হাজারো মানবিক পুলিশ অফিসার।
গুনরাজদি এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মনির হোসেন। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পেশায় ইজি বাইক চালক। ২৪ মার্চ পহেলা রমজান রাতে যাত্রী সেজে মনির হোসেনকে বঙ্গবন্ধু সড়কে নিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ইজি বাইক চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। এরপর মনির হোসেন চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ ইজি বাইকটি খুজেঁ বের করার জন্য জোরালো চেষ্টা চালায়। তবুও ইজিবাইকটি খুজে পাওয়া যায়নি। এদিকে ইজিবাইক হারিয়ে খুবই হতাশাগ্রস্থ আর সাংসারিকভাবে খুবই অভাবে পড়ে মনির হোসেন। সে মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে প্রতিবন্ধী মনির হোসেনের পাশে দাঁড়ায় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ ও ওসি (তদন্ত) ওয়ালি উল্যাহ। এ দু’ পুলিশ কর্মকর্তা ইজি বাইক কেনার জন্য মনির হোসেনকে ১ লাখ টাকা প্রদান করেন।
অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদের এমন দৃষ্টান্ত দেখে চাঁদপুরের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশংসা করেন। তিনি চাঁদপুরের মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার। অধিকাংশ মানুষই তাকে গরীবের বন্ধু ভাবে। তার চোখে ধনী-গরীব, জেলে, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেণীপেশার মানুষ সমান।
তার মতো দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্ব।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আইনের সেবক হয়ে জনতার সারিতে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবো, প্রতিটি মানুষ আমাকে খুব কাছ থেকে পাবে এবং তাদের সমস্যার কথা গুলি বলতে পারবে ঠিক তেমন ভাবে আমি চাঁদপুরবাসীর জন্য কাজ করব। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন চাঁদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম-বার স্যারের দিকনির্দেশনায় নিজ কর্মস্থলে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সহিত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন,ইসলাম মানবতার ধর্ম। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো, বিপদ মুক্তির জন্য সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা। তাদের দুর্দিনে আর্থিক সহায়তা, খাবার-দাবার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসা ইমানের দাবি। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মতো অসহায়-দুর্গত মানুষদের সাহায্য করাও ইবাদত।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরের তিন উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কে কত ভোট পেলেন

চাঁদপুর সদর ওসি আবদুর রশিদের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী মনির পেল ইজিবাইক

আপডেট সময় : ০৭:০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩
সময়ে -অসময়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশিরভাগ আলোচিত হয়। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারাও যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই, আমরা তা স্বীকার করতে নারাজ। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করি না। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ এর মতো হাজারো মানবিক পুলিশ অফিসার।
গুনরাজদি এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মনির হোসেন। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পেশায় ইজি বাইক চালক। ২৪ মার্চ পহেলা রমজান রাতে যাত্রী সেজে মনির হোসেনকে বঙ্গবন্ধু সড়কে নিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ইজি বাইক চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। এরপর মনির হোসেন চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ ইজি বাইকটি খুজেঁ বের করার জন্য জোরালো চেষ্টা চালায়। তবুও ইজিবাইকটি খুজে পাওয়া যায়নি। এদিকে ইজিবাইক হারিয়ে খুবই হতাশাগ্রস্থ আর সাংসারিকভাবে খুবই অভাবে পড়ে মনির হোসেন। সে মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে প্রতিবন্ধী মনির হোসেনের পাশে দাঁড়ায় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ ও ওসি (তদন্ত) ওয়ালি উল্যাহ। এ দু’ পুলিশ কর্মকর্তা ইজি বাইক কেনার জন্য মনির হোসেনকে ১ লাখ টাকা প্রদান করেন।
অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদের এমন দৃষ্টান্ত দেখে চাঁদপুরের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশংসা করেন। তিনি চাঁদপুরের মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার। অধিকাংশ মানুষই তাকে গরীবের বন্ধু ভাবে। তার চোখে ধনী-গরীব, জেলে, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেণীপেশার মানুষ সমান।
তার মতো দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্ব।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আইনের সেবক হয়ে জনতার সারিতে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবো, প্রতিটি মানুষ আমাকে খুব কাছ থেকে পাবে এবং তাদের সমস্যার কথা গুলি বলতে পারবে ঠিক তেমন ভাবে আমি চাঁদপুরবাসীর জন্য কাজ করব। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন চাঁদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম-বার স্যারের দিকনির্দেশনায় নিজ কর্মস্থলে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সহিত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন,ইসলাম মানবতার ধর্ম। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো, বিপদ মুক্তির জন্য সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা। তাদের দুর্দিনে আর্থিক সহায়তা, খাবার-দাবার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসা ইমানের দাবি। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মতো অসহায়-দুর্গত মানুষদের সাহায্য করাও ইবাদত।