বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকাত আতঙ্কে চাঁদপুরের জনজীবন : নির্ঘুম রাতে দলবেঁধে পাহারা

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৪, ১০:১০ পিএম
ডাকাত আতঙ্কে চাঁদপুরের জনজীবন : নির্ঘুম রাতে দলবেঁধে পাহারা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিতে একের পর এক হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে চাঁদপুরবাসীর।
ডাকাত আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা লাঠি হাতে সারারাত রাস্তায় পাহারায় দিতে নেমে পড়েছেন।
সরকার পতনে পুলিশ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর এই আতঙ্কে আছেন বলে জানান অনেকেই।
চাঁদপুরের আট উপজেলার শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাতভোর ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট লিখে, লাইভ করে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়েছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
আবার অনেক এলাকায় দল বেঁধেও পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির পাহারায় রয়েছেন অনেকে। লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতি রাতেই এলাকায় টহল দিয়ে সকালে বাড়ি ফেরেন তারা। জানা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ খুলে সমন্বয় করে এলাকাভিত্তিক টহল টিম করে পাহারার কাজটি করছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক। ডাকাতির বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হচ্ছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ডাকাতির অভিযোগ জানিয়ে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য চাইছেন।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে সতর্ক করে দেয়া হয়। এছাড়াও মোবাইলে কল করে পাড়া প্রতিবেশি কিংবা বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনকে জানিয়ে সজাগ করে দেন অনেকে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সতর্কতামূলক পোস্ট করে জানিয়ে দেয়া হয়। অনেকে আবার সেনাবাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করে সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানা যায়। তবে গত কয়েকদিনে জেলার কয়েকটি এলাকায় ডাকাত সন্দেহে কিছু ব্যক্তিকে আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী সফিউল্যাহ। তিনি জানান, আমাকে একজন রাত প্রায় পৌনে ২টার দিকে রামপুর ইউনিয়নের আলগী থেকে ফোন করে জানায় ওদিকে নাকি ডাকাত ঢুকেছে। পরে প্রতিবেশিদেরও আমি কল দিয়ে জানিয়ে দেই। কিছুক্ষণ পরেই নিজ এলাকা সহ দূর দূরান্তের মসজিদের মাইকেও একই কথা শুনতে পাই। নাসির হাজী নামে এক যুবদল নেতা এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা গত কয়েকদিন যাবত ডাকাত আতঙ্কে আছি।
তাই দলীয় নির্দেশনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। জুয়েল হাজী নামে এক সমাজকর্মী বলেন, পুলিশ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে আমাদের। গত কয়েকদিনেই জেলার কোথাও না কোথাও এ ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার দিবাগত রাতেও আমাদের এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে থাকতে হয়েছে এলাকাবাসীকে।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।