বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণে প্রশংসিত মহামায়ার ছাত্র সমাজ

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৪, ১১:০৮ পিএম
জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণে প্রশংসিত মহামায়ার ছাত্র সমাজ
চাঁদপুর সদর উপজেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে জনসচেতনতা ও “ক্লীন আপ কর্মসূচীর” উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল দশটায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে উপজেলার মহামায়া এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার, ট্রাফিক কন্ট্রোল, বাজার মনিটরিং সহ আরো বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেন।
মহামায়া বাজারের যানবাহন চলাচলে যানজট নিরসনে শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা।
এসময় সড়কে বাস, সিএনজি, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন শৃঙ্খলা মেনে চলাচল করেছে।
কেউ যাতে নিয়ম ভেঙ্গে যানবাহন চলাচল না করে তাদেরকে বুঝিয়ে পথ চলা এবং শৃংখলা মানতে বাধ্য করা হয়। মোটরসাইকেল আরোহীদেরকে হেলমেট পড়ার ব্যাপারেও সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেন তারা। তবে গত কয়েকদিনে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের মহামায়া বাজারের যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন এখানকার ছাত্র সমাজ।
এছাড়াও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বাজার গঠনে লিপলেট বিতরণ করা হয়। সেই সাথে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্যোগ নেয় তারা।
দলমত নির্বিশেষে এই কাজে অংশগ্রহণ করেন রুশাইবা হেনা (হাজীগঞ্জ আহমেদীয়া কামিল মাদ্রাসা), জুয়েল হাজী (হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজ), আয়মান সাঈদ (বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, বাবুরহাট), নাফিজ ইকবাল (চাঁদপুর সরকারি কলেজ), নিয়াজ হোসাইন (বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ), আকাশ (হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজ), সাকিব হোসেন ও মাশরাফি সাইফ (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ), আবদুল বাতেন পাটওয়ারী (বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ), আঃ আজিজ (চাঁদপুর সরকারি কলেজ), ফয়েজ হোসেন (চাঁদপুর সরকারি কলেজ), রাকিব হোসেন (বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ) সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।
এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানা মহলে প্রশংসায় ভাসছেন মহামায়ার সাধারণ ছাত্র সমাজ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।