বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে যুবলীগ নেতার অতর্কিত হামলায় প্রধান শিক্ষক আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪, ১২:০৪ এম
চাঁদপুরে যুবলীগ নেতার অতর্কিত হামলায় প্রধান শিক্ষক আহত
চাঁদপুর সদরে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পথে মোঃ শাখাওয়াত হোসেন পাটওয়ারী নামে এক শিক্ষকের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে যুবলীগ নেতা সাঈদ উজ্জামান পাটওয়ারী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। ভুক্তভোগী মোঃ শাখাওয়াত হোসেন পাটওয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার গ্রামের জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুল শিক্ষক চাঁদপুর শহরের বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সোয়া ১০টার দিকে স্কুলের সামনে নামেন।
এসময় ওৎ পেতে থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন বহিষ্কৃত শিক্ষক সাইদ উজ্জামান পাটওয়ারী ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলার শিকার শাখাওয়াত হোসেন পাটওয়ারী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে যান। এই সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সাঈদ উজ্জামান বিদ্যালয়ের গেইটে হামলার চেষ্টা চালায় এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ভাষায় গালমন্দ করে।
ঘটনাটি এলাকার সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পরে গত ৮ আগস্ট বিকালে স্থানীরা বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে বসলে অভিযুক্ত শিক্ষক সাঈদ উজ্জামান প্রধান শিক্ষকের উপর আরো চড়াও হয়ে যায় বলে জানা যায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সাড়ে ৪ বছর পূর্বে এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেন চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল বারেক পাটওয়ারীর ছেলে সাঈদ উজ্জামান পাটওয়ারী।
ঐ সময় বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর একজন ছাত্রীকে জোড় পূর্বক উত্যক্ত করার অপরাধে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মরহুম এম এম নুরুল হক সহ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই শত্রুতার জের ধরে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পরদিন সকালেই এ হামলা চালায় ঐ অভিযুক্ত শিক্ষক।
অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদ উজ্জাজমান বর্তমানে নিজেকে বিএনপি সমর্থিত বলে দাবী করে এ হামলা চালায় একজন প্রধান শিক্ষকের ওপর।
অথচ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা যায় তিনি সাবেক পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও চাঁদপুর পৌর মেয়র এ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল সহ বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে ছবি তোলা। তিনি একই উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কেতুয়া এলাকার পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা। তার বড় ভাইয়েরা কেউ কেউ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন পাটওয়ারী মোবাইল ফোনে কান্নাকন্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে আমার উপর সে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যে হামলা চালিয়েছে তা আমি খুবই লজ্জিত ও মর্মাহত। আমি গলায় ফাঁস দিয়ে মরা ছাড়া আমরা আর কোন উপায় নাই। আমি কাউকে আর আমার মুখ দেখাতে চাই না বলে ফোনটা কেটে দেন।
এই বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষক সাঈদ উজ্জামানের কঠিন শাস্তি চেয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়। তবে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সাইদ উজ্জামান পাটওয়ারীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।