বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি-সম্পাদককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪, ১০:২৪ পিএম
চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি-সম্পাদককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুরের নেতৃবৃন্দরা।

দীপু মনির প্রেতাত্মা সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আহসানুল্লাহ্ সহ যারা স্বৈরাচার সরকারের তাবেদারি করেছেন তারা জাতির দুশমন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ।

রবিবার দুপুর ১টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলন করা হয়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা বলেন প্রেসক্লাব একটি গনমানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান বা ঠিকানা। এ প্রেসক্লাব বরাবরই জাতির দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছে, কিন্তু পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ প্রতিষ্ঠানটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে এর ভাবমূর্তি ধবংস করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সারা বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কারীরা ফ্যাসিবাদ খুনি হাসিনার পতনের ডাক দিয়েছেন তখন তারা নির্বিচারে শিক্ষার্থী ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালিয়েছেন সেই সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ব্যানার নিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের বিপক্ষে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন, যেটা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক।  তাই ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।

Model Hospital

আওয়ামী লীগকে মদদ দিয়ে মানববন্ধনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ছাত্রদের রক্ত ঝরানোর মতো মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত ছিল তারা।

তারা আরো বলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কিছু সংখ্যক সাংবাদিক, সাংবাদিকতার আড়ালে এদের কর্মকাণ্ড ছিল নিজেদের স্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী। ছাত্ররা এখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। এখন জাতীর দুশমনরা প্রেসক্লাবে বা সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে আর যাতে জাতির ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।

মানববন্ধন শেষ করে ছাত্ররা প্রেসক্লাবের দিকে অগ্রসর হলে প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক আলোকিত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ জাকির হোসেন, সাংবাদিক ইলিয়াস, সাংবাদিক জামাল,সাংবাদিক এইচ এম আরিফ হোসেন সহ আরো কয়েকজন সংবাদ কর্মী ছাত্রদেরকে প্রেসক্লাব ভাঙচুর না করার জন্য অনুরোধ জানালে তারা আর ভাঙচুর করেনি ।

তারা তখন প্রেসক্লাবে লাগানো শেখ হাসিনা ও দীপু মনির পলক কালো কালি দিয়ে মুছে দেন এবং দেওয়ালে কালি দিয়ে লিখেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ চাই।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।