শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ৫ ইউপিতে নৌকার ভরাডুবির কারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৩১ পিএম
কচুয়ায় ৫ ইউপিতে নৌকার ভরাডুবির কারণ

মো: রাছেল : পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত কচুয়া উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হয়েছে। গত বুধবার ১২টি ইউপির মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টিতে এবং নৌকা ৫টি জয়লাভ করে। দুই একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়াই ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলো থেকে ফলাফলের ঘোষণা আসতে থাকে। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হচ্ছেন- সাচার ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (ঘোড়া) প্রতীকে মনির হোসেন পেয়েছেন ৬ হাজার ৩শ ২১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি (নৌকা)প্রতীকের প্রার্থী মিন্নত আলী তালুকদার পেয়েছেন ৪ হাজার ৬০ ভোট। পাথৈর ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রতীকে (আনারস) আলী আক্কাস মোল্লা পেয়েছেন ২ হাজার ৫শ ৫৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (টেলিফোন) গোফরান ২হাজার ৪শ ৩৭ ভোট।

বিতারা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (ঘোড়া) প্রতীকে ইসহাক সিকদার পেয়েছেন ৮হাজার ৭শ ৮৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) ইসমাইল হোসেন পেয়েছেন ৬হাজার ৭শ ৩৪ ভোট। পালাখাল মডেল ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (ঘোড়া) প্রতীকে হাবিব মজুমদার জয় পেয়েছেন ৫ হাজার ৪শ ২০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটর সাইকেল) ইমাম হোসেন ৩ হাজার ৬শ ৪২ ভোট। পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে (নৌকা) প্রতীকে আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৯শ ১৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (আনারস) প্রার্থী আবদুস সামাদ ৫হাজার ৮শ ৭১ ভোট।

উত্তর কচুয়া ইউনিয়নে (নৌকা) প্রতীকে আখতার হোসাইন পেয়েছেন ৮ হাজার ৭শ ৮২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) কাজী জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৫শ ৯৪ ভোট। কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়নে (চশমা) প্রতীকে স্বতন্ত্র খন্দকার আরিফজ্জুমান আরিফ পেয়েছেন ২ হাজার ৯শ ৬৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি (নৌকা) প্রতীকের আলী আজগর প্রধান পেয়েছেন ২ হাজার ৫শ ১৪ ভোট। কাদলা ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (আনারস) প্রতীকে নূরে-ই আলম রিহাত পেয়েছেন ১০ হাজার ৩শ ৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী (নৌকা) প্রতীকে রফিকুল ইসলাম লালু পেয়েছেন ৩হাজার ৯৯ ভোট। কড়ইয়া ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (নৌকা) প্রতীকে আবদুস সালাম সওদাগর, গোহট উত্তর ইউনিয়নে (নৌকা) প্রতীকে কবির হোসেন পেয়েছেন ৬ হাজার ৬শ ৯২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (আনারস) আমিন উদ্দিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪শ ৩৬ ভোট।

Model Hospital

গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নে (নৌকা) প্রতীকে আমির হোসেন পেয়েছেন ৯হাজার১শ ৩১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটর সাইকেল) প্রতীকে আলা উদ্দিন পেয়েছেন ৫হাজার ১শ ৪০ ভোট। আশ্রাফপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া ) প্রতীকে গোলাম মাওলা হেলাল মুন্সী পেয়েছেন ৫ হাজার ২শ ৯৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি (নৌকা) প্রতীকের ওমর ফারুক শামীম পেয়েছেন ৪ হাজার ৮শ ৯২ ভোট।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’