শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা, আটক-২

হাজীগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত সাইমনের ফরিদগঞ্জ দাফন

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৮ পিএম
হাজীগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত সাইমনের ফরিদগঞ্জ দাফন

গেল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে হাজীগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইমন (১৬) নামে এক কিশোর মৃত্যুবরন করেন।

শনিবার রাত ৮ ঘটিকার সময় রাজধানীর ধানমন্ডি সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিঃ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন কিশোরের পালক বাবা মো: ইউনুস।

কিশোর সাইমন হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার পালক বাবার বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়ার চর-বাকিলা এবং দাদার বাড়ি ফরিদগঞ্জের দিকধাইর গ্রামে। তার পালক বাবা পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। সে হাজীগঞ্জ বিলওয়াই কোকাকোলা ঘাট এলাকায় মা ও পালক বাবার সাথে ভাড়া বাসায় থাকে।

সাইমনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বাদ আসর দাদার বাড়ি ফরিদগঞ্জের দিগধাইর সর্দার বাড়িতে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

Model Hospital

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন, মাওলানা আবু সাইদ মোঃ শরফুদ্দিন।

জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পাটোয়ারি, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল সুমন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কাজী জসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল সর্দার, ফরিদগঞ্জ ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন মিয়াজি, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ইমরান হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোশারফ হোসেন,  ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মনির হোসেন সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

দু’গ্রামের সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত সাইমনকে প্রথম হাজীগঞ্জ মুন হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয় কুমিল্লায়। অবস্থা অবনতি হলে শনিবার দুপুরে নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ারে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে স্থানীয় দুই গ্রাম মকিমাবাদ-টোরাগড়ের কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষে হাজীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে প্রায় অর্ধশত আহত হন।

সংঘর্ষের জেরে বাজারে যান চলাচল ও দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে মধ্যরাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির হাইকমান্ড শুক্রবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সকল কমিটি তাৎক্ষণিক বিলুপ্ত ঘোষনা করেন।

এঘটনায় অজ্ঞাত তিনশ থেকে ৪০০ জনকে আসামী করে টোরাগড় গ্রামের পারভেজের স্ত্রী তুহিন বেগম হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৩, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।

মামলার পর পরই পশ্চিম গন্ধব্যপুর জমাদার বাড়ির মীর হোসেনের ছের মোহাম্মদ রিফাত (১৯) ও সেন্দ্রা গাজী বাড়ির শুকর আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন (২৩) আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঘটনার সাথে জড়িত বাকী সন্দেহভাজনদের ধরতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে বলে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুক নিশ্চিত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’