শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিজয় দিবসে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান

হাইমচরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:৫০ পিএম
হাইমচরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত
হাইমচরে দিনের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরনের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
গত সোমবার সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালনা নাজনীন তৃষা এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি নিরুপম মজুমদার, হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন সুমন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার হাফিজ আহমেদ মাষ্টার, সাবেক কমান্ডার বারেক বকাউল। আলোচনা শেষে উপজেলার ৭৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন উপজেলা প্রশাসন।
এসময় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর পূর্বে সূর্যয়ের সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ  প্রশাসক উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৩১ বার প্রতিধ্বনি শেষে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ শহীদ মিনারে  শহীদদের প্রতি ফুললেল শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়।
এর পর হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন সুমন এর নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত পুলিশ সদস্যের টিম শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। পরে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাক্তার এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নেতৃত্বে অন্যান্য ডাক্তার এবং কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।
হাইমচর প্রেসক্লাব আহ্বায়ক ফারুকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সাহেদ হোসেন দিপুর নেতৃত্বে শহীদদের স্মরনে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটোয়ারীর নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়।
উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মাঝি ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল মান্নান আখন নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।উপজেলা সেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন জোটন ও সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মিয়াজী এবং ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়। উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আহাম্মেদ আখন ও সাধারণ সম্পাদক মিলাদ হোসেন মাঝির নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।
উপজেলা মহিলা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দগণ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’