শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অসহায়দের মাঝে রোজার আনন্দ বিতরন করলো বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১২ পিএম
অসহায়দের মাঝে রোজার আনন্দ বিতরন করলো বিজয়ী

রোজার আনন্দ তুলে দিচ্ছেন বিজয়ী ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান

বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছরের মত এই বছরও চাঁদপুরে স্থানীয় অসহায় পরিবারের মাঝে রমজান মাসের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপন্যের (চাল, ডাল, তেল, সেমাই, বুট, চিনি, লবন, ট্যাং,খেজুর, আলু,মুড়ি, চিড়াসহ নানরকম খাদ্য সামগ্রী) সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮শে ফেব্রুয়ারী) চাঁদপুর পুরান বাজারে বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে বিজয়ী এর প্রেসিডেন্ট খালেদা ইয়াসমিন রুবি, ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান উপস্থিত থেকে “রোজার খুশি” নামে এই পন্য সমাগ্রী তুলে দেন।

ইনার হুইল ক্লাব অফ আরুশি এর প্রেসিডেন্ট এবং বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা এর এডভাইজার নিলুফার করিমের সার্বিক সহযোগিতায় আজকের এই আয়োজন।

মুঠোফোনে নিলুফার করিম বলেন রোজার খুশি কিছু মানুষের ঘরে পৌছে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব ভাল লাগছে। পারিবারিক সফরে আজকে আমি আমেরিকায় চলে যাওয়ার কারনে স্বশরীলে উপস্থিত থাকতে পারিনি। সবাই দোয়া কামনা করছি যেন দেশে ফিরে এসে আপনাদের পাশে থাকতে পারি।

Model Hospital

এ সময়ে বিজয়ী এর প্রেসিডেন্ট খালেদা ইয়াসমিন রুবি বলেন সমাজে মানবতার ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মাহে রমজানের রোজার যথেষ্ট গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের যে সম-অধিকার রয়েছে, প্রকৃত রোজাদার ব্যক্তি তা উপলব্ধি করতে পারেন এবং সমাজের গরিব মানুষের প্রতি খুবই সদয় ব্যবহার করেন। কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অসদাচরণ ও অন্যায়-অপরাধ করেন না। রোজাদার ব্যক্তি সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সাম্যের জয়ধ্বনি করেন।

সমাজের শ্রমজীবী খেটে খাওয়া সম্বলহারা মানুষ যাতে মাহে রমজানের রোজা যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সে জন্য ধনী-সামর্থ্যবান রোজাদারেরা দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিজয়ী থেকে প্রতি বছরই আমরা চেষ্টা করি অসহাদের মাঝে রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য তুলে দিতে।

বিজয়ী’র ফাউন্ডার নারী, শিশু এবং অসহায় মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’