শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় হাজীগঞ্জের যুবকের মৃত্যু, লাশ পেতে দূতাবাসে স্বজনদের আহাজারি 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩, ১১:২৪ পিএম
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় হাজীগঞ্জের যুবকের মৃত্যু, লাশ পেতে দূতাবাসে স্বজনদের আহাজারি 
সৌদিআরব সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লাশ ফিরে পেতে গত এক মাস ধরে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বজনদের আহাজারি।  নিহত এ রেমিট্যান্স যোদ্ধা উপজেলার ৬ নং বড়কূল পূর্ব ইউনিয়নের দিগছাইল বেপারী বাড়ীর মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে মো.মোরশেদ আলম (৩৫)।
জানাযায়, গত ২৩ রমজান ১৫ এপ্রিল শনিবার সৌদিআরবের নাজরান এলাকায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোরশেদ আলম মৃত্যুবরণ করেন। এ খবর শুনে তার স্ত্রী ও চার সন্তানসহ স্বজনদের আহাজারি যেন থামছে না। স্বজনদের শুরু থেকে একটাই আক্ষেপ তারা যেন মোরশেদ আলমের মরদেহ বাংলাদেশে নিজ পারিবারিক কবরের স্থানে মাটি দেওয়া হয়।
গ্রামের সাধারণ পরিবারের স্বজনরা ইতিপূর্বে কয়েকবার বাংলাদেশ দূতাবাসের সন্ধানে গিয়ে দালাল চক্রের সামনে পড়ে মোটা অংকের টাকা দাবির কাছে ফিরে আসে। সহযোগিতা করার মত যেন কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না স্বজনরা। ঢাকা মিরপুর থানা পুলিশের কাছে গিয়েও সহযোগিতা না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।
এদিকে সৌদিআরবের হিমাগারে মৃত রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোরশেদ আলমের লাশ প্রায় মাসের উপরে পড়ে আছে। সেখানকার ফোরম্যান কুমিল্লার সুমন সৌদিআরবের সকল কাগজপত্র ঠিক করে রাখলেও বাংলাদেশ থেকে কোন ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া লাশ হস্তান্তর হচ্ছে না বলে জানাযায়।
এ বিষয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত মোরশেদ আলমের ভাই আ. সামাদ বলেন, আমার ভাই প্রায় ৭ বছর আগে সৌদিতে যায়।  গত ২৩ এপ্রিল শুনেছি সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে।  লাশ ফিরে পেতে আমার ভাতিজা এমরান হোসেনকে নিয়ে কয়েকবার ঢাকা দূতাবাসের সন্ধানে যাই। অনেক হয়রানির পর সর্বশেষ এয়ারপোর্টে গিয়ে কাগপত্র আংশিক ঠিক করে সৌদি দূতাবাসে কাগজপত্র জমা দেই। কিন্তু পরবর্তী কি হবে তা আমাদের কিছুই বলেনি। আমরা নিহত মোরশেদ আলমের লাশ ফিরে পেতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবার আমার কাছে যে ভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন আমি চেষ্টা করেছি সহযোগিতা করার কিন্তু পরবর্তীতে কি হয়েছে তা আমাকে জানায়নি। তারপরেও আমি প্রয়জনে স্থানীয় সাংসদের সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করবো।

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে লায়ন্স ক্লাবের পানির ফিল্টার স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে লায়ন্স ক্লাবের পানির ফিল্টার স্থাপন
রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুর-এর উদ্যোগে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে উন্নত পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ পথে ফিল্টারটি স্থাপন করা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. হারুনুর রশীদ, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফ আহমেদ এবং চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের সুপারভাইজার আবু ইউছুফ। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লিও ক্লাব অব চাঁদপুর-এর ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও জান্নাতুন নাঈমা জুহানি এবং প্রেসিডেন্ট লিও সাইফুল ইসলাম লিখন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ কে মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজনের সমাগম হয়। তাদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুরের এই উদ্যোগ রোগী ও স্বজনদের জন্য উপকারী হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর প্রেসিডেন্ট লিও সাইফুল ইসলাম লিখন জানান, অক্টোবর মাস হচ্ছে লায়ন্স ক্লাব ও লিও ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসকে আমরা সার্ভিস মাস হিসেবে অনেক সেবামূলক কাজ করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে আজকে লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে এবং ও লিও ক্লাবের প্রচেষ্টায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও সেবাপ্রত্যাশী মানুষের কথা বিবেচনা করেই পানির ফিল্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আমাদের সার্ভিস মাসের যাত্রা শুরু হলো। আগামীতেও আমরা যেন এভাবে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি, এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।
লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও জান্নাতুন নাঈমা জুহানি বলেন, সমগ্র বিশ্বব্যাপী লায়ন্স ও লিওয়া এই অক্টোবর মাসে অনেক সেবামূলক কাজ করে থাকে। আমরাও সেভাবে সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। আজকে হাসপাতালে পানির ফিল্টার স্থাপনের মধ্যদিয়ে আমাদের সার্ভিস মাসের শুভ উদ্বোধন হলো। আমরা সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।
আয়োজনের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ছিলেন লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর উপদেষ্টা ওয়ায়েছ মোহাম্মদ জয়। এ সময় লিও ক্লাব অব চাঁদপুরের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য, ক্লাব সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।