বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র-চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৪, ৮:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র-চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে
ছাত্র দের বৈষম্য আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্থবির হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম। আওয়ামী লীগপন্থি উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও ইউপি চেয়ারম্যানদের বেশির ভাগই এখন আত্মগোপনে। অনেকের মোবাইল ফোনও বন্ধ। ফলে উন্নয়নমূলক কাজ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুসনদ প্রদান কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে কেউ কেউ কর্মস্থলে না এসেও অজ্ঞাত স্থান থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে স্থবিরতা নিরসনে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে  অনুপস্থিতদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগপন্থি। সরকার পতনের পর হামলার আশঙ্কায় তারা এলাকা ছাড়েন। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিষদ, চেয়ারম্যানের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খাজে আহমেদ মজুমদারসহ পরিষদের অন্য সদস্যরা গোপনে রয়েছেন। এদিকে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী ও আওয়ামী লীগপন্থি প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলররা উধাও। মাঠে আছেন বিএনপিপন্থি ২ কাউন্সিলর। পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা জানান, পৌরসভার কার্যক্রম অনেকটা স্থবির। উপকার ভোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বালিথুবা পূর্ব, গুপ্টি পশ্চিম, পাইকপাড়া দক্ষিণ, গোবিন্দপুর উত্তর  গোবিন্দপুর দক্ষিণ, চরদুঃখিয়া পূর্ব, ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ, রুপসা উত্তর ও রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোট ৯ জন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত। সরকার পতনের পর তারাও আত্মগোপনে। কারও কারও বাসায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে ভাংচুর চালানো হয়। হামলার ঘটনার দুইদিন পর থেকেই প্রতিনিয়ত অফিস করছেন গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ।
তিনি বলেন, আমি সর্বদাই দল মত নির্বিশেষে সকল পাশে ছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দুইদিন পর থেকেই প্রতিনিয়ত অফিস করছি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে কাজ করছি।
এছাড়া গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, রুপসা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাড়ি ও রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে মুঠোফোনে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা পরিষদে আসবেন এবং প্রতিনিয়ত মানুষের সেবায় কাজ করবেন।
এ বিষয়ে জানতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলি মন্ডলের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র কেন নিজ নিজ পরিষদে যাচ্ছেন না, তা আমার জানা নেই। আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো। জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সমস্যা নিরসনে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।