বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সড়ক থেকে চাঁ’দা’বা’জি বন্ধ, স্বস্তিতে চালকরা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৩২ পিএম
শাহরাস্তিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সড়ক থেকে চাঁ’দা’বা’জি বন্ধ, স্বস্তিতে চালকরা

ছাত্র আন্দোলনের পর গত ৫ আগষ্ট থেকে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। এতে চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরাও।

ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় একটি চক্র উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছিল। টাকা দিতে না চাইলে চালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করত চাঁদাবাজরা।

বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিত স্পট থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হতো। এতে যাত্রীদের গুনতে হতো অতিরিক্ত ভাড়া। গাড়ির গতিরোধ করে চাঁদা আদায়ের কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানজট লেগে থাকত। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চললেও প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভ্রুক্ষেপ করেনি। মুখ খুললেই বিপদ নেমে আসত প্রতিবাদকারীদের ওপর। অনেক সময় চাঁদা আদায়ের জন্য অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় এমপির নিষেধাজ্ঞার পরও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, আবুল হোসেনসহ আরও অনেক নেতার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয় নি চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যর্থ হয় প্রশাসনও। অথচ ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে ছাত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দোয়াভাঙ্গা, ঠাকুরবাজার ও কালিবাড়িসহ আশেপাশের কয়েকটি জায়গায় পুরোপুরি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়।

Model Hospital

শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওয়ারুক, দোয়াভাঙ্গা, কালিয়াপাড়া, ঠাকুরবাজার, কালীবাড়ি, শোরশাক, সূচীপাড়া বাজার, মোল্লার দর্জা, চিতোষী বাজার, খিলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক স্পটে চাঁদাবাজি চলত। যদিও এসব সড়কে পৌরসভার কিংবা ইউনিয়নের নিজস্ব কোনো পার্কিং স্থান কিংবা টার্মিনাল নেই। এর পরও এসব এলাকায় চলাচলরত অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে ১০ টাকা, পিকআপভ্যান থেকে ৫০ টাকা, ট্রাক থেকে ১০০ টাকা টোল আদায় করত কথিত ইজারাদারের লোকজন।

প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হতো। চাঁদা দিতে না চাইলে চালকদের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হতো। চাঁদা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দুর্ব্যবহারসহ শারীরিকভাবে আঘাত করা হতো যাত্রীদের। বছরের পর বছর চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন খেটে খাওয়া যানবাহনের চালকরা। অথচ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী, পৌরসভার নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত সড়ক থেকে কোনো ধরনের পৌরকর বা টোল নিতে পারবে না। এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে টোল আদায় বন্ধ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোর করে চাঁদা আদায় করা হতো।

এ অবস্থায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার পর থেকে এসব স্থানে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে। স্পটগুলোতে লাঠি হাতে চাঁদাবাজদের আর দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাসহ চাঁদা আদায়কারীরা স্পটগুলো থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে যানবাহনের চালকরা স্বাধীনভাবে সড়কে চলাচল করছেন।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।