বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরেও হাজীগঞ্জের সাবেক সচিব শাহ কামালের বহুতল ভবন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪, ৭:৩৮ পিএম
চাঁদপুরেও হাজীগঞ্জের সাবেক সচিব শাহ কামালের বহুতল ভবন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল। গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়, তার নিজ জেলা চাঁদপুরেও রয়েছে পাঁচতলা ভবন।

তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর প্রায় সময় এখানে এসে থাকতেন। সবশেষ চারদিন আগে রাতে গাড়ি নিয়ে এসে পুনরায় ঢাকায় চলে যান।

চাঁদপুর শহরের বনবিভাগ সড়কের খলিশাডুলি গ্রামে শাহ কামালের বাড়ি। ওই বাড়িসহ তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ। বাড়িটি পৌরসভার মধ্যে হলেও পুরো বাড়ির কোথায় পাওয়া যায়নি হোল্ডিং নম্বর। কৌশল করে তিনি হোল্ডিং নম্বর বসাননি। বাড়ির সামনেও নেই নামফলক।

শাহ কামালের বাড়ির উত্তরে আছে মো. নরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির বাড়ি। দক্ষিণে মো. আবুল বারী মিঞা ও শাহিনা আক্তারের বাড়ি। ওই বাড়ির পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর হচ্ছে ৯৯৭/৫। পূর্ব দিকে চাঁদপুর বনবিভাগের কার্যালয়।

Model Hospital

খলিশাডুলি গ্রামের বাসিন্দা মজিদ পাটওয়ারীর বাবা ও আত্মীয়দের কাছ থেকে জমি কেনেন শাহ কামাল।

এ বিষয়ে মজিদ পাটওয়ারী বলেন, ২০ বছর আগে শাহ কামাল ও তার ভাই মাজহারুল আলমের নামে এই জমি কেনা হয়। তবে পরে এই সম্পত্তি নিজের এবং স্ত্রীর ফারজানা সিদ্দিকা জুঁইয়ের নামে লিখে নিয়েছেন শাহ কামাল। কিছুদিন আগে পাশের একটি জমিও কিনেছেন তার স্ত্রী নামে। বাড়ি নির্মাণ করার সময় আমি তার জমিতে মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছি। ওই ভরাটের আড়াই লাখ টাকা দিয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ। সচিবের কাছে আমি এখনো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পাবো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, শাহ কামাল চারদিন আগে রাত ১০টার দিকে গ্রামের বাড়ি আসেন।

খলিশাডুলি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী বলেন, এলাকায় এলে তিনি খুবই প্রভাব দেখাতেন। তার বাড়ির সামনের সড়কটিও দ্রুত পাকা হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটি ২০১৬ সালে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে ভাড়া দেন তিনি। সমিতি তাকে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা দিতো। ওই অফিস চলে যাওয়ার পরে এখন খালি পড়ে আছে বাড়িটি।

সচিব শাহ কামালের বাবার নাম মো. মোজাহেরুল হক। গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলা দ্বাদশ ইউনিয়নের কাপাইকাপ গ্রামে। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় তিনি। গ্রামের বাড়ি থাকেন তার বড় ভাই ডা. শাহজাহান। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সাবেক সচিব মো. শাহ কামালের ব্যক্তিগত ৩টি নম্বরে কল দেওয়া হয়। তিনটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে শাহ কামালের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ ৩ কোটির বেশি টাকা এবং ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।