শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
শাহরাস্তিতে কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন
শাহরাস্তিতে কৃষকদের ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে কৃষক স্মার্ট কার্ড (কেএসসি) প্রদানের লক্ষ্যে কৃষক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) টামটা উত্তর ইউপির  হোসেনপুর ব্লকে (৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুন। তিনি তার বক্তব্য বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবাবান্ধব করতে কৃষক স্মার্ট কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন কৃষি সেবা দ্রুত ও সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ  ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্য বলেন , কৃষক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। ফলে সার, বীজ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, কৃষিঋণ, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সঠিক কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তথ্য সংগ্রহের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য নিবন্ধন করবেন বলে তিনি জানান।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনুস পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় এতে ফোকাল পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল হাসান।
ওই সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো  উপস্থিত ছিলেন, ওই ইউপির চেয়ারম্যান ফারুক দর্জি, চিতোষী পশ্চিম ইউপির  চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর এবং টামটা উত্তর ইউপির  বিএনপির সভাপতি শহীদুল্লাহ মিয়াজী,আয়েত আলী বেঙ্গল, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র দাস, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, মোহাম্মদ আল আমিন, উপজেলার অন্যান্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষক-কৃষাণী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর ব্লকের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম চলবে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কৃষকদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তথ্য সংগ্রহের সময় কৃষকের স্বশরীরে উপস্থিতি, মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), এনআইডির সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং একজন নমিনিকে তার মূল জাতীয় পরিচয়পত্রসহ উপস্থিত রাখতে হবে। পাশাপাশি কৃষি-সংক্রান্ত সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কৃষক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিসেবা সহজে গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও ডিজিটালভিত্তিক করে তুলবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’