ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিষমুক্ত সবজি চাষে বিপ্লব

বিষমুক্ত সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চাষীরা। ছবিটি রবিবার সকালে উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামের সবজি চাষী মো. সোলাইমানের ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক : কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সবজির চাষ হচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে। স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এই অঞ্চলের কৃষকদের। এই প্রযুক্তিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

Model Hospital

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় মেঘনার চরাঞ্চলসহ উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা, ষাটনল, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ব্যাপকহারে সবজির চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে বেগুন, পটল, করলা, চালকুমড়ার ঢেঁড়শ, ঝিঙ্গা ও শিম চাষ হয়েছে। আগে সবজি চাষের সময় অনেকে না বুঝেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতেন। এতে খরচ বেশি হওয়ায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

(রবিবার) সরেজমিনে একটি টমেটো, বাঁধাকপি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেত জুড়ে ঝুলিয়ে রাখা আছে ছোট ছোট প্লাস্টিকের বৈয়াম ও আঠা লাগানো হলুদ কাগজ। কাছে গিয়ে দেখা যায় এগুলি ক্ষতিকর পোকা দমনের ফরোমন ফাঁদ, এই সময় কথা হয় চাষি সোলেমানের সঙ্গে তিনি বলেন, এবছর তিনি ৫২ শতক জমিতে ফরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে তরকারী চাষ করেছেন। এতে কম খরচে বেশি ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। বাজারে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষ করা এই তরকারির চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। আমার দেখে পাশের অনেক কৃষকই এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

মেঘনার চরের কুমড়া চাষি আলাউদ্দিন জানান, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষে হলুদ ফাঁদও ফরোমন ফাঁদসহ অন্যান্য পোকা দমন পদ্ধতিতে চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের ১৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়া চাষ করেন এখানকার কৃষকরা। এসব পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা দমন হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না কৃষকদের। ফলে কীটনাশকের ব্যয় সাশ্রয় ও উৎপাদিত সবজি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

করলা চাষি ইব্রাহিম গাজী বলেন, বিষ প্রয়োগ ছাড়াই আমি করলা চাষ করছি। এতে কৃষি বিভাগ পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহারসহ আমাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, চলতি বছর এই উপজেলায় উৎপাদিত সবজির দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় খুশি কৃষকরা। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে সবজি চাষে বাড়তি কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদিত বিষমুক্ত এসব সবজির চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় ও দাম ভালো পাওয়া বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ আগ্রহ বাড়েছে কৃষকদের। কৃষক পর্যায়ে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরাস্তির কৃতি সন্তান মাসুদ আলম যশোরের নতুন এসপি 

বিষমুক্ত সবজি চাষে বিপ্লব

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সবজির চাষ হচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে। স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এই অঞ্চলের কৃষকদের। এই প্রযুক্তিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

Model Hospital

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় মেঘনার চরাঞ্চলসহ উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা, ষাটনল, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ব্যাপকহারে সবজির চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে বেগুন, পটল, করলা, চালকুমড়ার ঢেঁড়শ, ঝিঙ্গা ও শিম চাষ হয়েছে। আগে সবজি চাষের সময় অনেকে না বুঝেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতেন। এতে খরচ বেশি হওয়ায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

(রবিবার) সরেজমিনে একটি টমেটো, বাঁধাকপি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেত জুড়ে ঝুলিয়ে রাখা আছে ছোট ছোট প্লাস্টিকের বৈয়াম ও আঠা লাগানো হলুদ কাগজ। কাছে গিয়ে দেখা যায় এগুলি ক্ষতিকর পোকা দমনের ফরোমন ফাঁদ, এই সময় কথা হয় চাষি সোলেমানের সঙ্গে তিনি বলেন, এবছর তিনি ৫২ শতক জমিতে ফরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে তরকারী চাষ করেছেন। এতে কম খরচে বেশি ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। বাজারে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষ করা এই তরকারির চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। আমার দেখে পাশের অনেক কৃষকই এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

মেঘনার চরের কুমড়া চাষি আলাউদ্দিন জানান, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষে হলুদ ফাঁদও ফরোমন ফাঁদসহ অন্যান্য পোকা দমন পদ্ধতিতে চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের ১৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়া চাষ করেন এখানকার কৃষকরা। এসব পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা দমন হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না কৃষকদের। ফলে কীটনাশকের ব্যয় সাশ্রয় ও উৎপাদিত সবজি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

করলা চাষি ইব্রাহিম গাজী বলেন, বিষ প্রয়োগ ছাড়াই আমি করলা চাষ করছি। এতে কৃষি বিভাগ পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহারসহ আমাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, চলতি বছর এই উপজেলায় উৎপাদিত সবজির দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় খুশি কৃষকরা। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে সবজি চাষে বাড়তি কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদিত বিষমুক্ত এসব সবজির চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় ও দাম ভালো পাওয়া বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ আগ্রহ বাড়েছে কৃষকদের। কৃষক পর্যায়ে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।