মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে দেবর-ভাবির পরকীয়ার জেরে বলি হলেন দেবর

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:১৬ পিএম
মতলবে দেবর-ভাবির পরকীয়ার জেরে বলি হলেন দেবর

নিহত ইকবাল হোসেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নে দেবর-ভাবির পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে একই এলাকার বখাটেদের মারধরের অপবাদ সইতে না পেরে ইকবাল হোসেন (২৩) নামে এক শ্রমিক আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরিবারের দাবি এটি একটি হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় নিহত ইকবাল হোসেনের বাবা খোরশেদ খলিফা বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর উপজেলার কালীরবাজার এলাকার রায়েরকান্দি খলিফা পাড়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি কালীরবাজারের ইব্রাহিম খানের জাহাজের ডগ এ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
জানা যায়, নিহত ইকবাল হোসেন তার ভাবি ময়না বেগমের সাথে পরকীয় সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি আশেপাশের এবং তার গ্রামের কিছু লোকজন জেনে ফেলে পরবর্তীতে ময়না বেগমের মোবাইলটি কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায় এবং মোবাইলটির রেকর্ডিংয়ে পরকীয়া সংক্রান্তে কিছু কথাবার্তার তথ্য পাওয়া যায়। গত ৭ নভেম্বর রাতে এই রেকর্ডের কথাগুলোকে কেন্দ্র করে ইকবাল হোসেন একই এলাকার মো. নাসিরের ছেলে মিল্লাত হোসেন (৩৫), মরন সর্দারের ছেলে  মো. সুজন সহ ৪/৫ জন বখাটে  মিলে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। টাকা না দিলে রেকর্ডিংয়ের কথাবার্তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে।
একপর্যায়ে ইকবাল হোসেনকে ডেকে কালির বাজার লঞ্চঘাটে মারধর করে তারা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আবার ইকবাল হোসেনের ভাবি ময়না বেগমের কাছে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা। তিনি টাকা দিতে না পারায় ইকবাল হোসেনের মোবাইলটি নিয়ে যায় সুজন ও মিল্লাত হোসেন। মোবাইলের জন্য ইকবাল হোসেন তাদের কাছে গেলে আবারো মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে না জানিয়ে বিষাক্ত কেরির ট্যাবলেট (কীটনাশক) খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
এ বিষয়ে নিহত ইকবাল হোসেনের ভাবি ময়না বেগম পরকীয়ার সম্পর্ক স্বীকার করে জানান  জানান, আমি আমার আমার দেবরের সাথে মোবাইলে কথা বলতাম। সেই কথার রেকর্ডিং ও দুটো ছবি ছিল আমার মোবাইলে। কিছুদিন আগে আমার মোবাইলটি ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে তারা ওই মোবাইলের রেকর্ডিং ও ছবি দেখিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে এবং আমার কাছ থেকে টাকা পয়সা চেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সুজন ও মিল্লাত সহ আরো কয়েকজন ইকবালকে ধরে নিয়ে মারধর করে ও তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে কীটনাশক ওষুধ খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন আমার দেবর।
ইকবাল হোসেনের বোন রুপালি বেগম জানান, আমার ভাবি ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে যদি অবৈধ সম্পর্ক থাকত তাহলে আমাদেরকে জানাতো তারা অথবা এলাকার সামাজিক লোকজনকে জানাতো। মিল্লাত, সুজন ও তার সহযোগী আরো ৪-৫ জন মিলে আমার ভাইকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেদম মারে। ব্যাথা সহ্য করতে না পারলে আমার ভাই ডাক চিৎকার দিলে তারা আমার ভাইকে জোর করে কিছু একটা খাইয়ে দেন। পরবর্তীতে ডাক চিৎকার শুনে আমরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসলে ইকবাল বলে আমার শরীর ভালো লাগছে না আমাকে একটু পানি দাও। আমরা তাকে পানি দিলে পানি খেয়ে অচেতন হয়ে যায় আমার ছোট ভাই ইকবাল। তড়িঘড়িত করে তাকে অটো গাড়ি করে দাউদকান্দি নিয়ে যাওয়ার পথে আমার ভাই মৃত্যুবরণ করেন। এখন এ ঘটনার প্রশাসনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
ইকবাল হোসেনের মা জাহানারা বেগম জানান, আমার কলিজার ধন তারা নিয়ে মেরে ফেলেছে। এখন আমারে কে দেখবে? আমাকে কে ওষুধ কিনে দেবে? আমার তো আর কেউ রইল না। আমি আইনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করছে তাদের আমি ফাঁসি চাই।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ঘটনার পর আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। পোস্টমর্টেম এর রিপোর্ট আসলে ঘটনার সত্যতা জানা যাবে। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ কাজ করছে।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।