শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির যৌথ সভা

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:২৩ পিএম
হাইমচরে আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির যৌথ সভা
হাইমচর উপজেলার ৩ নং আলগী দূর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলগী দক্ষিণ  ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সমন্বয়ে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ ই ডিসেম্বর বিকাল ৩ টায় উপজেলার  ৩৪ নং সিফাইকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজহারুল ইসলাম মেজরের পরিচালনায় আয়োজিত যৌথ সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন ,বিএনপি একটি শান্তির সংগঠন। আমরা বিএনপির সংগঠন করি বিদায় অনেক ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এই সারিতে যারা বসে আছে প্রত্যেকেই ১৭ বছরে কয়েক বার কারাদণ্ডীত হয়েছি।আপনারা আমাদের সাথে থাকলে যত কষ্টই হবে আমরা গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত মাঠে থাকবো।আপনারা কেও ঘরে থাকতে পারেননা,কিন্তু আমরা আ’লীগকে  কোনো মামলা দেইনি এমনিতে  তারা আজ নিজেই পালাতক ।
এই দল মানুষের  দুঃখ কষ্ট বুঝার মতো সংগঠন। গত ১৭ টি বছর আমরা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইকে পেয়েছি।আমরা মানিক ভাইকে হাইমচর ও চাঁদপুর এমপি হিসেবে নির্বাচিত করবো ইনশাআল্লাহ।  ফ্যাসিস্ট  আওয়ামী লীগ সরকার  ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে বসে বিভিন্ন  অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।আপনারা সবাই সচ্চার থাকবেন, তাহলেই দেশ ও জাতীর কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা।
যৌথ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মিজানুর রহমান শেখ,যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক হারুনর রশীদ,সরদার আবু তাহের, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক বাবুল, আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক মোঃ বিল্লাল হোসেন আখন, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান আখন, সেচ্চাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক মোঃ বোরহান উদ্দিন জুটন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন বাচ্চু,কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আহসান হাবিব, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির লিটনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড়ের বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, ওলামাদল সহ অন্যান সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’