শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ডাকাতিয়ায় প্রশাসনের অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল ধ্বংস

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম
শাহরাস্তিতে ডাকাতিয়ায় প্রশাসনের অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল ধ্বংস
শাহরাস্তিতে দেশীয় মাছের প্রজনন, মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ফুট নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার খিলা বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে একদল অসাধু জেলে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল পেতে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নদী থেকে আনুমানিক ১ হাজার ফুট অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’-এর ধারা ৫ এবং ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫’ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী মাছের প্রজনন, পোনা মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি, রিং জালসহ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
শাহরাস্তি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদাফ বলেন, “চায়না দুয়ারি ও রিং জাল শুধু মাছ নয়, পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীকেও নির্বিচারে নিধন করে। ফলে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “ডাকাতিয়া নদী ও এর শাখা-খালগুলো এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডার। সরকারি মৎস্য সংরক্ষণ নীতিমালা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে কেউ জলজ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ  সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’