শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে দখলকৃত খাল উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
হাজীগঞ্জে দখলকৃত খাল উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘খাল বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘হাজীগঞ্জ পৌরবাসী’। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের গাজির খাদা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পেছন দিয়ে হাজীগঞ্জ থানার সামনে হয়ে বোয়ালজুরি খালের সঙ্গে সংযোগ ছিল। একইভাবে গাজির খাদা থেকে হাজীগঞ্জ রেলস্টেশন পর্যন্তও খাল ছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জলপথের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

তারা বলেন, জনস্বার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও বাজার এলাকার সরকারি খালগুলোও দ্রুত চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি খালের জায়গা পুনরুদ্ধার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

Model Hospital

বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

নুরুন্নবী সম্রাটের সভাপতিত্বে এবং মারুফ খান রাসেলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন,খোরশেদ আলম ভুট্টু, হাজী মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির সুমন, নাজমুল হাসান রাজন, জহির আহমেদ জহির ও সোহেল রানা সোহেলসহ অন্যরা। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

খাল উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থান নয়, হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও বাজার এলাকার সব সরকারি খাল-নালা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। এতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’