শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবন্ধী শিশু ও ঘর পুড়ে ছাই

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩, ২:২৪ পিএম
শাহরাস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবন্ধী শিশু ও ঘর পুড়ে ছাই
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের অগ্নিকাণ্ডে  এক পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশু পুত্র সোহান ১০ এবং  বসতঘর পুড়ে  ভস্মীভূত হয়েছে।
উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউপির দক্ষিণ পাড়া আলীপুর বেপারী  বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার ওই বাড়ির ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রবিউল আলমের  পুত্র সোহান  জন্মের পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী জনিত কারণে  ঘরের এক কোণে শুয়ে থাকতো। ওইদিন পরিবারটির সকল সদস্য পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে দাওয়াত থাকায়  মা শাহীন পুত্র সোহানের পাশে একটি টেবিল ফ্যান চালিয়ে দাওয়াত খেতে যায়।  কিছুক্ষণ পর সোহানের ছোট ভাই বাড়িতে এসে পুরো ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে সে ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে  আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস সিভিল  ডিফেন্স শাহরাস্তি স্টেশনকে খবর দেয়।
শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার ইনচার্জ আলী মিয়ার নেতৃত্বে একদল ফায়ারম্যান স্থানীয়দের  চেষ্টায়  আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস লিডার আলী মিয়া জানান,ফায়ার সার্ভিস দল ঘটনার স্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই শিশু সোহান আগুনে দগ্ধ হয়ে সম্ভবত প্রাণ হারায়।  আগুনের তীব্রতা এতই বেশী থাকায় মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সাবেক ইউপি সদস্য মুকবুল  জানান,রবিউল পেশায় একজন ইলেকট্রিক মেকানিক । ওই আগুনে রবিউলের  অবকাঠামো ঘর , গৃহস্থালি সামগ্রী ফার্নিচার, মানুষের ঠিক করতে দেওয়া ৩টি এলইডি টিভি, স্ত্রীর গহনা, এনজিও থেকে লোনের  নগদ ৪০ হাজার টাকা, ১০ মন চাউল, ৩০মন ধান, ফোন। একইভাবে রবিউলের স্ত্রী শাহীন স্থানীয়দের কাপড়চোপড় সেলাইর কাজ করতো। ওই আগুনে দুটি দামি সেলাই মেশিন ও স্থানীয়দের জমাকৃত কাপড় মিলে প্রায় ৫ লক্ষ  টাকার ক্ষতিসাধন হয়।
এ বিষয়ে  স্থানীয় বাসিন্দারা জানান রবিউল একজন সামান্য ইলেকট্রিক মেকানিক। হঠাৎ করে এ আগুন তার সন্তান  ও ঘর সব কেড়ে নিল। এতে পরিবারটি গৃহ ও সন্তানহীন হয়ে তিমির আধারে নিমজ্জিত হয়েছে। ওই সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি  গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ  হুমায়ন রশিদকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। মুহূর্তের মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলা  ইউএনও মোহাম্মদ  হুমায়ন রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্তনা দিয়ে তাদের  ২ বস্থা চাউল,নগদ ২০ হাজার টাকা সহ  ঘর নির্মাণ ও  সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে পরিবারটি গণমাধ্যমকে  জানায়।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এর পাশাপাশি শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেনের নির্দেশে এসআই জুলফিকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সহযোগিতার জন্য ঘটনার স্থল পরিদর্শন  করেন।
এদিকে ওই রাত ৯ টায় গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনার স্থলে গেলে এক হৃদয়বিদার দৃশ্যের  অবতারণা হয়। দেখা যায় আগুনে দগ্ধ শিশুটির বিকৃত চেহারার দেহকে কোন রকম একটি জুটা বেঁধে দাফনের জন্য স্থানীয় লোকজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

সামাজিক ও মানবিক কাজ করে প্রতিটি মানুষের মনে স্থান নিয়েছে প্রবাসী সোহেল সওদাগর।

সোহেল সদাগর কচুয়া উপজেলার কড়‌ইয়া ইউনিয়নের লুন্তি গ্ৰামের কৃতি সন্তান। তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সিরাজুল ইসলাম । ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট সোহেল সওদাগর।

এলাকাসহ কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের মুখে সোহেল সদাগর মানবতার ফেরিওয়ালা নামে  শোনা যাচ্ছে।কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে ফারি জমায়, বর্তমানে তার সৌদি আরবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার জীবনের  উপার্জনের টাকার মধ্যে প্রায় ৫০% টাকা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

প্রতিবছরের প্রায় দুই থেকে তিনবার এলাকায় এসে  বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করেন।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকেন। তার এই কর্মকান্ডে কচুয়া উপজেলা বাসির কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে মানুষের মনের জায়গায় করে নিয়েছেন।

কচুয়ার একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান,সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন প্রবাসী সোহেল সওদাগর।
সামাজিক দিক থেকে সকলের প্রিয় মানুষ তিনি। মানুষের হিয়ার মাঝে অধিকার পৌছে দেয়াই তার বাসনা, মুখে থাকে তার মন ভাল করে দেয়া হাসি। সদা প্রাণোবন্ত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ সোহেল সওদাগর। হাসি ছাড়া কথা বলেন না কারো সাথে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পরোপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এই মানবিক মানুষ। স্বপ্ন তার অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার। তিনি সবসময় অসহায় অবহেলিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। শুধু তাই নয় যে কোনো সামাজিক সমস্যায় তাকে পাশে পাওয়া যায়।
কচুয়ার সাধারণ জনগণ জানান, মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহেল সওদাগর নিঃস্বার্থ ভাবে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা,ধর্মিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
সোহেল সওদাগর বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের সাথে চলতে হলে ইসলামে দেখানো প্রতিটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মানবসেবার জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মানবিক জনকল্যাণ মুলক কাজ করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ। একটি সুন্দর কাজ সম্পাদন করতে দরকার ভালো মানসিকতার। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার আত্মতৃপ্তি। মানুষের উপকার করতে পারলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। এটাই আমার কর্মময় জীবন। এভাবেই সারাজীবন জনগণের সেবা করে পাশে থাকতে চাই।