শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়

স্কুলে যখন এসএসসির ফল ঘোষণা হচ্ছে, রাব্বি তখন অন্ধকার কবরে

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩, ৯:২৭ পিএম
স্কুলে যখন এসএসসির ফল ঘোষণা হচ্ছে, রাব্বি তখন অন্ধকার কবরে
হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল রাকিব হোসেন রাব্বি। ২৮ জুলাই শুক্রবার ফল প্রকাশের পর জানা যায় “এ” গ্রেড পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো ফলের এই আনন্দ যেন নিতে পারছে না সহপাঠী, শিক্ষক বা পরিবারের কেউই। কারণ স্কুলে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন অন্ধকার কবরে শুয়ে আছেন রাব্বি।
রাকিব হোসেন রাব্বির বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব দেবপুর গ্রামে। বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ও মা ফাতেমা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়।
রাব্বির পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিল রাব্বি। গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার সময় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এবং ২১ জুলাই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকার্ত বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফল প্রকাশের দিনে তাদের মনে নেই তেমন আনন্দ। কারন ফল প্রকাশের ৮ দিন আগেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সে। পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও সে নিজের জ্ঞানের শেষ সফলতাটুকু দেখে যেতে পারল না।
রাব্বির বন্ধু ও সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, ‘রাব্বি আমাদের প্রিয় বন্ধু ছিল। ও খুবই ভালো ছেলে। রেজাল্টের দিন সে এভাবে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত থাকবে, এটা ভাবতে পারছি না। খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ পাক আমাদের বন্ধুকে ওপারে ভালো রাখুন।’ এদিকে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী রাকিব হোসেন রাব্বি ১২টি বিষয়ের মধ্যে ৮টিতেই এ প্লাস আর বাকীগুলোতে এ পেয়ে ৪.৭৮ (এ) গ্রেড অর্জন করেন।
বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাকিব হোসেন রাব্বি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রতিবছর রেজাল্টের দিন আমরা স্কুলে অনেক আনন্দ উল্লাস করি। কিন্তু আজ তার পরিবর্তে আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনকে স্থির করতে পারছি না। ভাইয়ের মতো বিগত কয়টি বছর ধরে রাব্বিকে স্কুলে দেখভাল করেছি। আজ খুশির দিনে সে নেই। সে নিজের ফলাফল দেখে যেতে পারল না।’
রাকিব হোসেন রাব্বির কাকা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাতিজা ও এক ভিতিজির মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব মনোযোগ ছিল। সে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন পরিবারের এই বড় ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে ভালো একটা চাকরি করাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না।
রাব্বির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী। তিনি তার শোক বার্তায় বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য খুবই কষ্ট ও বেদনার মধ্যদিয়ে জীবন চলছে। সবাইকে শোক সইবার শক্তি দান করুক। আল্লাহ ওকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক।

দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

সামাজিক ও মানবিক কাজ করে প্রতিটি মানুষের মনে স্থান নিয়েছে প্রবাসী সোহেল সওদাগর।

সোহেল সদাগর কচুয়া উপজেলার কড়‌ইয়া ইউনিয়নের লুন্তি গ্ৰামের কৃতি সন্তান। তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সিরাজুল ইসলাম । ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট সোহেল সওদাগর।

এলাকাসহ কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের মুখে সোহেল সদাগর মানবতার ফেরিওয়ালা নামে  শোনা যাচ্ছে।কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে ফারি জমায়, বর্তমানে তার সৌদি আরবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার জীবনের  উপার্জনের টাকার মধ্যে প্রায় ৫০% টাকা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

প্রতিবছরের প্রায় দুই থেকে তিনবার এলাকায় এসে  বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করেন।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকেন। তার এই কর্মকান্ডে কচুয়া উপজেলা বাসির কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে মানুষের মনের জায়গায় করে নিয়েছেন।

কচুয়ার একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান,সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন প্রবাসী সোহেল সওদাগর।
সামাজিক দিক থেকে সকলের প্রিয় মানুষ তিনি। মানুষের হিয়ার মাঝে অধিকার পৌছে দেয়াই তার বাসনা, মুখে থাকে তার মন ভাল করে দেয়া হাসি। সদা প্রাণোবন্ত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ সোহেল সওদাগর। হাসি ছাড়া কথা বলেন না কারো সাথে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পরোপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এই মানবিক মানুষ। স্বপ্ন তার অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার। তিনি সবসময় অসহায় অবহেলিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। শুধু তাই নয় যে কোনো সামাজিক সমস্যায় তাকে পাশে পাওয়া যায়।
কচুয়ার সাধারণ জনগণ জানান, মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহেল সওদাগর নিঃস্বার্থ ভাবে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা,ধর্মিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
সোহেল সওদাগর বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের সাথে চলতে হলে ইসলামে দেখানো প্রতিটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মানবসেবার জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মানবিক জনকল্যাণ মুলক কাজ করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ। একটি সুন্দর কাজ সম্পাদন করতে দরকার ভালো মানসিকতার। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার আত্মতৃপ্তি। মানুষের উপকার করতে পারলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। এটাই আমার কর্মময় জীবন। এভাবেই সারাজীবন জনগণের সেবা করে পাশে থাকতে চাই।