শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ৪৫ ঘন্টা পর ইটভাটা শ্রমিক মিনা বেগমের লাশ উদ্ধার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ৮ মে, ২০২৩, ৭:২৬ পিএম
মতলব উত্তরে ৪৫ ঘন্টা পর ইটভাটা শ্রমিক মিনা বেগমের লাশ উদ্ধার

মতলব উত্তরে ৪৫ ঘন্টা পর ইটভাটা শ্রমিক মিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সাহেব বাজার সংলগ্ন বেড়ীবাঁধের বাহিরে এএসবি ব্রিকস ফিল্ড (ইট ভাটা)। এ ইট ভাটায় প্রতি বছরই দেশের দুর দুরান্ত থেকে ৬ মাসের জন্য মহিলা, পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করতে আসে।

গত (০৬ মে) শনিবার সকাল ১০ টায় ধনাগোদা নদীতে শ্রমিকরা নারী, পুরুষ ৫/৬ জন দল বেদে গোসল করতে যায়। দলের মধ্যে মিনা বেগম (৪০) পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় আর বাকীরা তীরে উঠে। নিখোঁজ হওয়া মিনা বেগমের সাথে তার ছেলে ও ছিল। নিখোঁজ মিনা বেগম কে তার ছেলে এবং সহকর্মীরা দিশেহারা হয়ে অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে ফায়ার ব্রিগেড কে খবর দিলে চাঁদপুর নদী ষ্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থল এসে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা উদ্ধার কাজ করেন।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের ইনচার্জ মো. কবির হোসেন। তাদের আয়ত্ত্বে না থাকার কারনে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করেন। দু’দিন তার আত্মীয় স্বজন ও ব্রিকস ফিল্ডের মালিক পক্ষের লোকজন অনেকেই ট্রলার যোগে বা অনেকই নদীর তীর বর্তি এলাকায় খোজাখুঁজি করে ও নিখোঁজ মিনা বেগম এর সন্ধান মিলেনি।

দুদিন পর তৃতীয় দিন ৮ মে সোমবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের সময় প্রায় সাড়ে ৪৫ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পর সিপাই কান্দি নামক স্থানে নদীতে মিনা বেগমের লাশ ভেসে ওঠে দেখতে পায় সিএনজি চালক মান্নানের স্ত্রী। তিনি আশেপাশের লোকজনকে বলাবলি করলে ব্রিকস ফিল্ডের মালিক পক্ষের লোকজনকে খবর দিলে মৃতের স্বজনরা মিনা বেগমের লাশ নদী থেকে উঠিয়ে ব্রিকস ফিল্ডের কাছে নদীর তীরে নিয়ে রাখা হলে মোহনপুর নৌ-পুলিশ স্টেশনকে খবর দিলে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান’সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল এসে মৃতের লাশের সুরুতহাল রির্পোট তৈরী করে লাশ তার স্বজনদের সম্মুখে দুপুর ২টায় তার স্বামী ও পরিবার পরিজনদের কাছে হস্থান্তর করে। লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যায় মৃতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। মৃত মিনা বেগমের ৫ সন্তান। ৪ মেয়ে, ১ ছেলে। বড় মেয়ে চম্পা (২০) কে বাদে দ্বিতীয় মেয়ে জান্নাত (১৮) তৃতীয় এক মাত্র ছেলে মোঃ কাউসার (১২), চতুর্থ মেয়ে ইসনাত (১০) ও ৫ম মেয়ে মিতু(৮) বছর। এ চার সন্তান সহ তার ভাই এক সাথে কাজ করতেন। মৃতের স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করে ঢাকায় বসবাস করতেন। ঐ ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

Model Hospital

এ ঘটনা শোনে মৃতের স্বামী কিরন মিয়া, মৃতের বড় মেয়ে চম্পা ও মৃতের বড় বোন রেখা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। শেষ পর্যন্ত সকল ঝল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাড়ে ৪৫ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পর স্বজনরা মিনার লাশ খুজে পেল।

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে লায়ন্স ক্লাবের পানির ফিল্টার স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে লায়ন্স ক্লাবের পানির ফিল্টার স্থাপন
রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুর-এর উদ্যোগে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে উন্নত পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ পথে ফিল্টারটি স্থাপন করা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. হারুনুর রশীদ, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফ আহমেদ এবং চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের সুপারভাইজার আবু ইউছুফ। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লিও ক্লাব অব চাঁদপুর-এর ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও জান্নাতুন নাঈমা জুহানি এবং প্রেসিডেন্ট লিও সাইফুল ইসলাম লিখন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ কে মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজনের সমাগম হয়। তাদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুরের এই উদ্যোগ রোগী ও স্বজনদের জন্য উপকারী হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর প্রেসিডেন্ট লিও সাইফুল ইসলাম লিখন জানান, অক্টোবর মাস হচ্ছে লায়ন্স ক্লাব ও লিও ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসকে আমরা সার্ভিস মাস হিসেবে অনেক সেবামূলক কাজ করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে আজকে লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে এবং ও লিও ক্লাবের প্রচেষ্টায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও সেবাপ্রত্যাশী মানুষের কথা বিবেচনা করেই পানির ফিল্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আমাদের সার্ভিস মাসের যাত্রা শুরু হলো। আগামীতেও আমরা যেন এভাবে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি, এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।
লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও জান্নাতুন নাঈমা জুহানি বলেন, সমগ্র বিশ্বব্যাপী লায়ন্স ও লিওয়া এই অক্টোবর মাসে অনেক সেবামূলক কাজ করে থাকে। আমরাও সেভাবে সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। আজকে হাসপাতালে পানির ফিল্টার স্থাপনের মধ্যদিয়ে আমাদের সার্ভিস মাসের শুভ উদ্বোধন হলো। আমরা সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।
আয়োজনের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ছিলেন লিও ক্লাব অব চাঁদপু-এর উপদেষ্টা ওয়ায়েছ মোহাম্মদ জয়। এ সময় লিও ক্লাব অব চাঁদপুরের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য, ক্লাব সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।